
সোনা-রুপো কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন? তা হলে এই খবরটা আপনার কাজের। ব্যাঙ্ক এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট সংস্থার সোনা, রুপো ও প্ল্যাটিনাম আমদানির ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ ইন্টিগ্রেটেড গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্সের ছাড় (IGST Exemption) তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে জিএসটি ফিটমেন্ট কমিটি। এবার লাখ টাকার প্রশ্ন, বিয়ের মরসুমের আগে কি দাম বাড়তে পারে সোনা ও রুপোর?
জিএসটি কাউন্সিলের সুপারিশের পর ২০১৭ সালে সোনা আমদানির ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ ছাড় চালু করা হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল, মূল্যবান ধাতু আমদানি করা ব্যাঙ্ক ও নির্দিষ্ট সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা। পরবর্তী সময়ে রুপো এবং প্ল্যাটিনাম আমদানির ক্ষেত্রেও এই ছাড় চালু হয়।
ইচ্ছে মতো সোনা আমদানি নয়
এখন সোনা আমদানির উপর রয়েছে নিয়ন্ত্রণ। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা নিজের ইচ্ছেমতো বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে পারে না। এর জন্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেডের (DGFT) মনোনীত সংস্থাগুলিই সোনা আমদানি করতে পারে। ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল বুলিয়ন এক্সচেঞ্জের (IIBX) মাধ্যমে সোনা আমদানি করতে পারেন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট গয়না ব্যবসায়ীরাই। এছাড়া ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি চুক্তির আওতায় থাকা কয়েকটি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানও বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে পারে।
সোনা ও রুপো আমদানির জন্য মনোনীত ব্যাঙ্কগুলির তালিকার মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। পরে ৩১ মার্চ ২০২৯ পর্যন্ত নতুন ব্যাঙ্কের তালিকা প্রকাশ করে ডিজিএফটি। নতুন তালিকায় সংশ্লিষ্ট জিএসটি ছাড়ের বিষয়টি নেই। ফিটমেন্ট কমিটির নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ছাড়ের আওতায় নেই ব্যাঙ্কগুলি। এবার ফিটমেন্ট কমিটি ব্যাঙ্ক ও মনোনীত সংস্থাগুলির সোনা, রুপো এবং প্ল্যাটিনাম আমদানির ক্ষেত্রে ছাড় পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এই ছাড় প্রত্যাহার করা হলে সোনা, রুপো এবং প্ল্যাটিনাম আমদানির উপর ৩ শতাংশ আইজিএসটি (IGST) দিতে হবে।
আমদানি খরচ কতটা বাড়বে?
তবে ফিটমেন্ট কমিটি আরও জানিয়েছে, ব্যাঙ্ক এবং মনোনীত সংস্থাগুলি আমদানির সময় যে আইজিএসটি দেবে, তার উপর ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট দাবি করতে পারবে। অর্থাৎ আপাতত ৩ শতাংশ অতিরিক্ত দিতে হলে আমদানির সময় খরচ বাড়বে। পরে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। ফলে সোনা-রুপোর চূড়ান্ত দামে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের উপর এর প্রকৃত খরচ এবং বাজারের চাহিদার উপর।
আরও দামি হবে সোনা-রুপো?
অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য, সোনা, রুপো এবং প্ল্যাটিনাম আমদানির ক্ষেত্রে ফের ৩ শতাংশ IGST চালু হলে ব্যাঙ্ক এবং গয়না ব্যবসায়ীদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের প্রয়োজন বাড়তে পারে। এর ফলে উৎসবের মরসুমে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের বাজারে সোনার আমদানি খরচ বাড়তে পারে। তার জেরে স্বল্পমেয়াদে এই মূল্যবান ধাতুগুলির দাম বাড়ার সম্ভাবনা।