
পুজোর আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে অগ্রিম বেতন ও ২০ শতাংশ ডিএ। মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার সেইকথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। পঞ্চমীতেই টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকতে চলেছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের। পাশাপাশি সপ্তম পে কমিশন দ্রুত কার্যকর করার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়ে আরও কিছুটা এগোল কাজ। জানা যাচ্ছে, রাজ্যে বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মীদের বেতন, ভাতা সংক্রান্ত তথ্য তলব করেছে নব গঠিত সপ্তম বেতন কমিশন।
সপ্তম পে কমিশনের সর্বশেষ আপডেট
রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন ও ভাতা কাঠামো পর্যালোচনার লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বার রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাছে কর্মী, পদ, পরিষেবা এবং ক্যাডার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চাইল সপ্তম বেতন কমিশন। বুধবার কমিশনের সদস্য-সচিব দেবী প্রসাদ করণমের জারি করা নির্দেশিকায় এই তথ্য জমা দেওয়ার জন্য দফতরগুলিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।
অনলাইন পোর্টালে জমা দিতে হবে তথ্য
রাজ্যে বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মীদের বেতন, ভাতা সংক্রান্ত তথ্য তলব করেছে প্তম বেতন কমিশন। রাজ্যের অর্থ সচিবকে চিঠি দিয়ে কমিশন সরকারি কর্মীদের পদ, পরিষেবা, ক্যাডার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা–সহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মচারী— যাঁদের বেতন ও ভাতাও রাজ্য সরকার বহন করে, তাঁদের সম্পর্কে তথ্যও দ্রুত দিতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে কমিশনের প্রশ্নমালার উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে এই তথ্য জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে তা জমা দিতে হবে। কমিশন এই ব্যাপারে পোর্টালের মাধ্যমে নির্ধারিত ফর্ম্যাট তৈরি করে দিয়েছে। এই তথ্য জমা দিতে কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টাল ** https://7spc.wb.gov.in/ ** ব্যবহার করতে হবে। নোডাল অফিসাররা মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে লগ ইন করে নির্ধারিত প্রশ্নমালার উত্তর ও তথ্য নথিভুক্ত করে জমা দিতে পারবেন। তবে নতুন বেতন কাঠামো কী হবে, বেতন কতটা বাড়তে পারে কিংবা কবে থেকে তা কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে এই চিঠিতে কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। আপাতত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা কাঠামো পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে সপ্তম বেতন কমিশন।
ইতিমধ্যেই গঠিত সপ্তম বেতন কমিশন
প্রসঙ্গত, গত জুলাইয়ে রাজ্য সরকার প্রাক্তন আমলা নবীন প্রকাশের নেতৃত্বে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন কর হয়। অর্থ দফতর থেকে সপ্তম পে কমিশনের জন্য ‘শর্তাবলি ও কার্যপরিধি’ নির্দিষ্ট করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। তাতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাঁচ সদস্যের পরিবারকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। অর্থ দফতরের ২২ জুলাই এবং ২৯ জুলাইয়ের দু’টি প্রস্তাবের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বর্তমান বেতন ও ভাতা কাঠামো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে কমিশন। সেই কাজের জন্য বিভিন্ন দফতরের অধীন পদ, পরিষেবা, ক্যাডার এবং কর্মীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। পাশাপাশি, কমিশন গঠনের প্রস্তাবের ‘পার্ট এ’ এবং ‘পার্ট বি’-তে উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট কর্মী ও সংস্থাগুলির তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব এবং সচিবদের উদ্দেশে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের নোডাল আধিকারিককে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
গত সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী ডিএ নিয়ে বড় ঘোষণা করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, পুজোর আগেই সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ২০ শতাংশ ডিএ ঢুকবে। পাশাপাশি পঞ্চমীতেই সরকারি কর্মীরা অক্টোবর মাসের অগ্রিম বেতন পাবেন। এরপরই সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানান, 'সিনিয়র আইএএস নবীন প্রকাশের নেতৃত্বে আমরা ক্ষমতা এসেই সপ্তম পে কমিশন তৈরি করে দিয়েছি। এবার চালু করার অপেক্ষা শুধু।' এরপরই শুভেন্দু বলেন, 'গোটা দেশে বাংলা ছাড়া সব রাজ্যেই সপ্তম পে কমিশন চালু রয়েছে। টাকাও পেয়ে গিয়েছে সকলে। মোদীজির নেতৃত্বে কেন্দ্রে অষ্টম পে কমিশন তৈরি হয়েছে। যাতে এরিয়ার দিতে না হয়।' মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সপ্তম পে কমিশনের রিপোর্ট পেলেই, দ্রুত কার্যকর করব। এ নিয়ে আর দুশ্চিন্তা করবেন না। এমনকী কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র তফাৎ খুব শিগগিরই মিটিয়ে দেওয়া হবে।'