
ধনী দেশের তালিকায় সুইৎজারল্যান্ডের নাম প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু মাথাপিছু ঋণের হিসেবেও এক নম্বরে তারাই।এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঋণের বোঝা রয়েছে সুইৎজারল্যান্ডের বাসিন্দাদের উপর। তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে আমেরিকা। আর ৩৯টি অর্থনীতির এই তুলনায় সবার শেষে ভারত।
মাথাপিছু ঋণে শীর্ষে সুইৎজারল্যান্ড
ভিজ়ুয়াল ক্যাপিটালিস্টের প্রকাশিত র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, সুইৎজারল্যান্ডে মাথাপিছু মোট ঋণের পরিমাণ ৩ লক্ষ ৪২ হাজার ২৪০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নরওয়েতে এই অঙ্ক ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। নেদারল্যান্ডস রয়েছে তৃতীয় স্থানে। সেখানে মাথাপিছু ঋণ ২ লক্ষ ২৪ হাজার ১৫৭ ডলার।
আমেরিকার ক্ষেত্রে অঙ্কটি ২ লক্ষ ২৪ হাজার ৩২ ডলার। ফলে দেশটি রয়েছে চতুর্থ স্থানে। পঞ্চম স্থানে ডেনমার্ক। সেখানে মাথাপিছু মোট ঋণ প্রায় ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৩৬৫ ডলার।
কীসের ভিত্তিতে তৈরি তালিকা?
২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের তথ্য ধরে এই হিসাব তৈরি হয়েছে। ৩৯টি দেশের সরকারি ঋণ, পরিবারের ঋণ এবং আর্থিক সংস্থা নয়, এমন বেসরকারি সংস্থার ঋণ একসঙ্গে যোগ করা হয়েছে। তথ্যের উৎস ব্যাঙ্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটলমেন্টস (বিআইএস) এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের জনসংখ্যা সংক্রান্ত অনুমান।
সুইৎজারল্যান্ডের ঋণ
সমীক্ষা বলছে, সুইৎজারল্যান্ডের ঋণের বড় অংশই সরকার নয়, পরিবার ও বেসরকারি সংস্থার। মাথাপিছু পারিবারিক ঋণ ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৩৮ ডলার। সংস্থাগুলির ঋণ ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ১০৮ ডলার। সরকারি ঋণ তুলনায় অনেক কম, ৩১ হাজার ৯৯৪ ডলার।
আমেরিকার ছবিটা আলাদা। সেখানে মাথাপিছু সরকারি ঋণই ৯৯ হাজার ১০৩ ডলার। পারিবারিক ও সংস্থার ঋণ যথাক্রমে ৬০ হাজার ১০৩ এবং ৬৪ হাজার ৮২৬ ডলার।
ভারত তালিকার একেবারে শেষে
ভারতে মাথাপিছু মোট ঋণ ৪ হাজার ৭০৮ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা। তবে মাথাপিছু ঋণ বেশি হলেই কোনও দেশ আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে, এমন নয়। আয়, সম্পদ, সুদের হার এবং ঋণ শোধের ক্ষমতাও বিচার করা জরুরি।