
বিক্রি হচ্ছে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক। ব্যাঙ্কে এলআইসি ও কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকা মোট ৬০.৭২ শতাংশ মালিকানা কিনছে কানাডার একটি আর্থিক সংস্থা। বুধবার, ১৪ অক্টোবর এই সিদ্ধান্ত নেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন ইকনমিক অ্যাফেয়ার্স।
কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফিনানশিয়াল হোল্ডিংসের অধীনস্থ সংস্থা M/s 10955230 Canada Inc-কে ৫২,৮৭৮.০৮ কোটি টাকায় বিক্রির অনুমোদনে শিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্র। এই চুক্তির আওতায় আইডিবিআই ব্যাঙ্কে কেন্দ্রের হাতে থাকা ৩০.৪৮ শতাংশ এবং এলআইসি-র হাতে থাকা ৩০.২৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রি করা হবে। সব মিলিয়ে ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার হাতবদল হবে। তবে এই বিক্রির পরেও ব্যাঙ্কে কেন্দ্রের হাতে ১৫ শতাংশ এবং এলআইসির হাতে ১৯ শতাংশ শেয়ার থাকবে। অর্থাৎ কেন্দ্র ও এলআইসি মিলিয়ে ব্যাঙ্কের ৩৪ শতাংশ অংশীদারি ধরে রাখবে।
বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগ
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন,‘কোনও সংস্থার ৫১ শতাংশ অংশীদারি বিক্রি হয়ে গেলে সাধারণত তার নিয়ন্ত্রণ নতুন মালিকের হাতে চলে যায়। সেই হিসাবে এবার ভারতের এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স গোষ্ঠীর হাতে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই চুক্তি হলে ভারতের আর্থিক ক্ষেত্রে এটিই হবে এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ।
কবে হবে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বিক্রির চুক্তি?
চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই আইডিবিআই ব্যাঙ্কের কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। তবে শেয়ার কেনাবেচার চুক্তিতে সই করার আগে সংশ্লিষ্ট ক্রেতাকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমোদন পেতে হবে। আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনায় কেন্দ্রের অনুমোদন মিললেও চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে কর্মী সংগঠনগুলির উদ্বেগ এখনও কাটেনি।
কর্মী সংগঠনের বিরোধিতা
এই চুক্তির বিরোধিতা করছে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ বেসরকারিকরণের পাশাপাশি বিদেশি সংস্থার হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ারও শামিল। প্রতিবাদে ১৬ অক্টোবর কালো ব্যাজ পরে কাজ করার জন্য সদস্যদের আহ্বান জানিয়েছে ইউএফবিইউ। সংগঠনের বক্তব্য, দেশের একটি ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি বিনিয়োগকারীর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সরকার কী বলছে
কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বর্তমান কর্মীদের চাকরির শর্তাবলি একই থাকবে। বহাল থাকবে পেনশনভোগীদের পেনশনও। আইডিবিআই ব্যাঙ্কের কৌশলগত পুনর্গঠন করা হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যাঙ্কের কাজকর্ম চলতে থাকবে। সংস্থাটি কাজ করবে পরিচালন পর্ষদের অধীনেই। কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করার দায়িত্বও ব্যাঙ্কের পরিচালন কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকবে।
আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ইতিহাস
১৯৬৪ সালে একটি উন্নয়নমূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০০৪ সালে সেটিকে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কে রূপান্তরিত করা হয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে আইডিবিআই ব্যাঙ্ককে বেসরকারি ক্ষেত্রের ব্যাঙ্ক হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। ২০১৯ সাল থেকেই ব্যাঙ্কে কেন্দ্রের অংশীদারি ৫১ শতাংশের কম রয়েছে।