
IDBI Bank Stake Sale: লাভের মুখ দেখছে ব্যাঙ্ক। তবু কেন বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে কেন্দ্র? তার উপর যে দামে বিক্রির কথা ছিল, তার চেয়ে অনেক কম দামে কেনা হচ্ছে শেয়ার! IDBI ব্যাঙ্কের মালিকানা হস্তান্তর ঘিরে এমনই একাধিক অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা। কানাডার আর্থিক সংস্থা Fairfax Financial Holdings-এর কাছে ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু শেয়ার বিক্রির দর এবং দরপত্রের নিয়ম নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও।
কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে IDBI ব্যাঙ্ক?
১৪ অক্টোবর ২০২৬-এ এই বিক্রিতে অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটি। মোট ৫২,৮৭৮ কোটি টাকায় ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি হবে। এর মধ্যে কেন্দ্রের হাতে থাকা ৩০.৪৮ শতাংশ এবং LIC-র ৩০.২৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বিক্রির পর কেন্দ্রের হাতে থাকবে ১৫ শতাংশ এবং LIC-র হাতে ১৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব।
ক্রেতা কানাডার ধনকুবের প্রেম ওয়াটসার সংস্থা Fairfax Financial Holdings-এর এক সহযোগী প্রতিষ্ঠান। প্রতি শেয়ারের দাম ৮১ টাকা।
বিতর্ক কেন?
প্রাথমিক ভাবে শেয়ারের দাম ছিল ৯৪.৪২ টাকা। কিন্তু প্রথম দফার দরপত্রে কোনও সংস্থাই সেই দাম দিতে রাজি হয়নি। পরে Fairfax ৮১ টাকার প্রস্তাব দেয়। এর পর নতুন করে মূল্যায়ন করে শেয়ারের দাম ৭৫.৯৯ টাকা ঠিক করা হয়। অর্থাৎ নতুন ভ্যালুয়েশনের তুলনায় বেশি দরেই শেয়ার কিনছে Fairfax।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, Fairfax-এর প্রস্তাব সামনে আসার পরেই কেন নতুন মূল্যায়ন করা হল? ২৯ অক্টোবরের BW Businessworld-এর প্রতিবেদনে সরকারি বৈঠকের নথি উদ্ধৃত করে এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মূল্যায়নে বেসরকারি ব্যাঙ্কের বদলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে তুলনার মাপকাঠি করা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এমনকি রেলের স্টোরস কোডের উল্লেখ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কেন্দ্রের জবাব
অর্থ মন্ত্রকের দাবি, প্রথম দফার দরপত্র বাতিল হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার আলাদা প্রক্রিয়ায় হয়েছে। ২০১৭ সালের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিনিয়োগ সংক্রান্ত সচিবদের কোর গ্রুপের এই জাতীয় সমস্ত নিয়ম সংক্রান্ত জটিলতার সমাধানের ক্ষমতা রয়েছে। নতুন ভ্যালুয়েশনও স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে করানো হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের।
রাহুল গান্ধী যদিও ব্যাঙ্কের কর্মীদের ভবিষ্যৎ এবং সংরক্ষণ নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিয়ম মেনেই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত হস্তান্তরের আগে RBI-এর অনুমোদন এবং ক্রেতার এলিজিবিলিটি যাচাই এখনও বাকি।