ব্র্যান্ডিংয়ের নয়া অধ্যায়ে ভারতীয় রেল। এবার বদলে যাচ্ছে তেজস এক্সপ্রেসের নাম। লখনউ-দিল্লি তেজস এক্সপ্রেসের নয়া নাম কী হচ্ছে? আগামী প্রায় তিন মাসের জন্য এই জনপ্রিয় ট্রেনের নাম হতে চলেছে স্প্রাইট তেজস এক্সপ্রেস (Sprite Tejas Express)। ভারতের রেলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ট্রেন সরকারিভাবে একটি বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডের নামে হতে চলেছে।
লখনউ-দিল্লি রুটে তেজস এক্সপ্রেস চালায় ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC)। রেল সূত্রের খবর, আগামী কয়েক মাসের জন্য বিজ্ঞাপন ও ট্রেন-ব্র্যান্ডিংয়ের অধিকার পেয়েছে স্প্রাইট। উত্তর-পূর্ব রেলকে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৯ অগাস্ট থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ৮২৫০১/৮২৫০২ নম্বর ট্রেনটিকে স্প্রাইট তেজস এক্সপ্রেস (Sprite Tejas Express) হিসেবে চালাতে হবে।
প্রথম কোনও ট্রেন বাণিজ্যিক সংস্থার নাম
ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এটি প্রথম ব্র্যান্ডিং চুক্তি। এর আগেও বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা ট্রেনে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। কিন্তু এই প্রথম স্টেশনে ঘোষণার সময়ে কোনও বাণিজ্যিক সংস্থার নামও থাকবে ট্রেনের সঙ্গে। যাত্রা শুরু থেকে শেষপর্যন্ত প্রতিটি স্টেশনেই ঘোষণা হবে, স্প্রাইট তেজস এক্সপ্রেস। জানা গিয়েছে, আইআরসিটিসি-র তরফে একটি লেটার অব অ্যাকসেপ্টেন্স (LOA) জারির মাধ্যমে ব্র্যান্ডিংয়ের অধিকার দেওয়া হয়েছে।
স্প্রাইট কি ট্রেন চালাবে?
না, স্প্রাইট বা অন্য কোনও বেসরকারি সংস্থা ট্রেন চালাবে না। এটা শুধুমাত্র চুক্তি। এটা খালি লোগো ও নাম ব্যবহার করার অনুমতি। তাও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য।
তেজস এক্সপ্রেস কি বেসরকারি ট্রেন?
লখনউ-দিল্লি তেজস এক্সপ্রেসকেভারতের প্রথম বেসরকারি ট্রেন বলা যেতে পারে। কারণ এটা রেল চালায় না। চালায় ভারতীয় রেলের অধীনস্থ সংস্থা আইআরসিটিসি । তবে সমস্ত পরিকাঠামো এখনও ভারতীয় রেলেরই। রেললাইন বা স্টেশন ব্যবহারের মতো সুবিধার জন্য ভারতীয় রেলকে নির্দিষ্ট অর্থ দেয় IRCTC।
কবে চালু হয়েছিল এই এক্সপ্রেস?
২০১৯ সালে লখনউ ও দিল্লির মধ্যে এই তেজস এক্সপ্রেস চালু হয়েছিল। প্রিমিয়াম পরিষেবা মেলে এই ট্রেনে। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। দারুণ খাবার থেকে বিনোদনের ব্যবস্থাও আছে। কর্পোরেট ইভেন্ট বা বিয়ের মতো অনুষ্ঠানও করা যেতে পারে ট্রেন বুক করে। রয়েছে একসঙ্গে বন্ধুবান্ধব মিলে ট্রেনে চড়ার সুযোগও। চাইলেই ৭৮ আসনের এসি চেয়ার কার কোচ ভাড়া নিতে পারেন।