Advertisement

India Top 5 Economies: ৫ বড় অর্থনীতির দেশের তালিকা থেকে ছিটকে গেল ভারত, এখন কত নম্বরে?

৫ বড় অর্থনীতির দেশের তালিকা থেকে ছিটকে গেল ভারত। নেমে গেল ষষ্ঠ স্থানে। IMF-এর World Economic Outlook অনুযায়ী, নামমাত্র GDP হিসেবে ভারত আর বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির মধ্যে নেই।

Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 17 Apr 2026,
  • अपडेटेड 11:21 AM IST
  • ৫ বড় অর্থনীতির দেশের তালিকা থেকে ছিটকে গেল ভারত
  • IMF-এর World Economic Outlook কী তথ্য দিচ্ছে?
  • কেন ব়্যাঙ্কিং কমে গেল ভারতের?

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (International Monetary Fund বা IMF) সর্বশেষ World Economic Outlook অনুযায়ী, নামমাত্র GDP হিসেবে ভারত আর বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির মধ্যে নেই।

তবে এই পরিবর্তন মূলত মুদ্রার ওঠানামার কারণে হয়েছে, কাঠামোগত দুর্বলতার জন্য নয়। পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক বছরে ভারত আবারও আগের অবস্থান ফিরে পেতে পারে। 

IMF-এর এপ্রিল ২০২৬-এর World Economic Outlook অনুযায়ী, ভারত এখন নামমাত্র GDP হিসেবে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আমেরিকার অর্থনীতি $30 ট্রিলিয়নের বেশি। এরপর রয়েছে চিন। প্রায় $19–20 ট্রিলিয়ন। জার্মানি প্রায় $5 ট্রিলিয়ন, আর জাপান ও আমেরিকার $4–4.5 ট্রিলিয়নের মধ্যে রয়েছে। ভারতের অর্থনীতি $4 ট্রিলিয়নের বেশি। 

কেন ভারতের স্থান নেমে গেল?
বিশ্বের GDP ব়্যাঙ্কিং মার্কিন ডলারে হিসেব করা হয়। ফলে বিনিময় হার এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রুপির মান কমে গেলে, ভারতের অর্থনীতির ডলার মূল্য পড়ে যায়, যদিও দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন অপরিবর্তিত থাকে।

গত এক বছরে রুপি ডলারের বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। মাঝামাঝি ৮০-এর ঘর থেকে বেড়ে ৯০-এর উপরে পৌঁছেছে। এর ফলে ডলার হিসেবে রুপির মূল্য পড়ে গিয়ে অর্থনৈতিক ব়্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব পড়েছে। 

রুপির উপর চাপ কেন?
সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, ফলে ডলারের চাহিদাও বেড়েছে। ভারত প্রায় ৯০% অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, ফলে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং ডলারের চাহিদা বাড়ে। যা রুপির ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে। 

একইসঙ্গে বিশ্ব বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগের ওঠানামা হয়েছে। ভারতীয় শেয়ার ও বন্ড বাজার থেকে অর্থ বেরিয়ে গেলে ডলারের চাহিদা আরও বাড়ে, ফলে রুপি দুর্বল হয়। এছাড়া, মার্কিন ডলারের সামগ্রিক শক্তি উচ্চ সুদের হার ও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদার কারণে উদীয়মান বাজারের মুদ্রাগুলোর উপর চাপ তৈরি করেছে, যার মধ্যে রুপিও রয়েছে।

Advertisement

দীর্ঘমেয়াদে, ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি একটি বড় কারণ। তেল, ইলেকট্রনিক্স ও সোনা আমদানির কারণে নিয়মিত ডলারের চাহিদা থাকে। অর্থনীতি বিদেশি পুঁজির উপর নির্ভরশীল যা বিশ্বে অনিশ্চয়তার সময়ে অস্থির হয়ে ওঠে। 

World Economic Outlook-এ অন্যান্য দেশের GDP অনুমানেও পরিবর্তন এসেছে। জাপান ও আমেরিকার মতো দেশগুলো কাছাকাছি অবস্থানে থাকায়, সামান্য পরিবর্তনেও র‍্যাঙ্কিং বদলাতে পারে। এই কারণে, স্বল্পমেয়াদে এই ব়্যাঙ্কিং কিছুটা ওঠানামা করেয 

ভারতের অর্থনীতির অবস্থা কেমন?
IMF-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের অর্থনৈতিক গতি কমেনি। ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলোর একটি, যেখানে আগামী ২ বছরে এই বৃদ্ধি ৬.৪–৬.৫% থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হার উন্নত অর্থনীতিগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। ভারতের এই বৃদ্ধি মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সরকারি বিনিয়োগ এবং শক্তিশালী পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। ফলে বিশ্বে মন্দার প্রভাব তুলনামূলক ভাবে কম পড়ে। 

রুপি দুর্বল হলে, ডলার হিসেবে অর্থনীতির আকার ছোট দেখায়, যদিও বাস্তবে উৎপাদন বাড়তেই থাকে। ভারতের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী। তবে যতদিন মুদ্রার উপর চাপ থাকবে, ততদিন বিশ্বে ব়্যাঙ্কিং ওঠানামা করবেই। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement