Advertisement

ট্রাম্পের মন্তব্যে বিরাট ধাক্কা ভারতের শেয়ারবাজারে, উবে গেল ৯ লক্ষ কোটি টাকা

বাজারে এই ধসের সবচেয়ে বড় কারণ হল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ফের উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা। ইরানের উপর নতুন মার্কিন বিমান হামলা এবং নিষেধাজ্ঞার খবর সামনে আসতেই বিশ্ববাজারে আতঙ্ক ছড়ায়।

ট্রাম্পের মন্তব্যে ফের কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য ট্রাম্পের মন্তব্যে ফের কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 08 Jul 2026,
  • अपडेटेड 8:29 PM IST
  • ভারতীয় শেয়ারবাজারে লেনদেন চলাকালীনই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসে
  • এরপরই টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বগতিতে ব্রেক পড়ে যায়

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিতে ইতি টানার ঘোষণা করেছেন। তারপরই মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা বাড়ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের শেয়ারবাজারে। এমনকী জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। 

ভারতীয় শেয়ারবাজারে লেনদেন চলাকালীনই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসে। এরপরই টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বগতিতে ব্রেক পড়ে যায়। সেনসেক্স ও নিফটি দু’টিই ধাক্কা খায়। দিনের লেনদেনে সেনসেক্স প্রায় ১,৯০০ পয়েন্ট পর্যন্ত পড়ে যায়, আর নিফটি নেমে আসে ২৩,৮০০-র আশপাশে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ বাজারমূল্যে উধাও হয়ে যায়। এই বড় পতনের পিছনে মূলত চারটি কারণ রয়েছে- 

১. ট্রাম্পের মন্তব্যে বাড়ল উদ্বেগ

বাজারে এই ধসের সবচেয়ে বড় কারণ হল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ফের উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা। ইরানের উপর নতুন মার্কিন বিমান হামলা এবং নিষেধাজ্ঞার খবর সামনে আসতেই বিশ্ববাজারে আতঙ্ক ছড়ায়। এরপর ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি ‘মিথ্যাবাদী’ দেশ এবং তাদের সঙ্গে আর কোনও আলোচনা হওয়া উচিত নয়। তাঁর কথায়, 'ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে সময় নষ্ট করার কোনও অর্থ নেই। তারা অসুস্থ মানসিকতার মানুষ। আমি তাদের সঙ্গে কোনও চুক্তি করতে চাই না। আমার মনে হয়, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।' 

২. অপরিশোধিত তেলের দামে বড় লাফ

ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একদিনেই প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি হয়। ভারতের জন্য এটি উদ্বেগের কারণ, কারণ দেশের মোট তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানির উপর নির্ভরশীল।

৩. ডলার শক্তিশালী, রুপির পতন

বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়েছে। তার জেরে ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। এক ডলারের বিপরীতে রুপির দাম দাঁড়ায় ৯৫.৫৫। দুর্বল রুপির কারণে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারতীয় বাজারে ব্যাপক বিক্রি শুরু করেন।

Advertisement

৪. ইন্ডিয়া VIX-এ তীব্র উত্থান

অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে ভারত ও আমেরিকা—উভয় দেশের বন্ড ইল্ড বেড়েছে। বাজারে অস্থিরতার জেরে ইন্ডিয়া VIX সূচকও তীব্রভাবে বেড়ে যায়। বুধবার এটি ২৬.০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪.৬৮-এ বন্ধ হয়। দিনের মধ্যে একসময় এটি ১৫.১৬-তেও পৌঁছয়। VIX যত বেশি থাকে, বাজারে অস্থিরতার সম্ভাবনাও তত বেশি বলে ধরা হয়।

এর আগের দিন মঙ্গলবারও আমেরিকার শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গিয়েছিল। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও বড় প্রযুক্তি সংস্থার শেয়ার—যেমন ইন্টেল এবং AMD—৬ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারেও পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার কোসপি সূচক ৫ শতাংশেরও বেশি নেমে যায়।

ভারতীয় বাজারে বুধবার সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে PSU ব্যাঙ্ক, রিয়েলটি, অটো এবং FMCG খাত। মারুতি সুজুকি, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার (HUL) এবং সরকারি ব্যাঙ্কগুলির শেয়ারে বড় পতন দেখা যায়। নিফটির PSU এবং প্রাইভেট ব্যাঙ্ক সূচক ২.৫ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। FMCG সূচকও প্রায় আড়াই শতাংশ এবং অটো সূচক ২ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।

এখন গোটা বিশ্বের নজর মার্কিন শেয়ারবাজারের দিকে। বুধবার ওয়াল স্ট্রিট কীভাবে লেনদেন শেষ করে, তার উপরই আগামী দিনে বিশ্ববাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement