
আবারও একটা আন্তর্জাতিক চা দিবস। ২০০৫ থেকে ফি বছর ২১ মে পালিত হচ্ছে এই চা দিবস। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল একদিকে যখন টানা ২২ বছর ধরে পালন হচ্ছে International Tea Day, তখন মুদ্রার অন্য পিঠে দেখা যাচ্ছে ভয়ঙ্কর ছবি। গত প্রায় দু'দশকের বেশি কিছু সময় ধরে রফতানিতে পিছিয়ে যাচ্ছে প্রিয় দার্জিলিং চা। উল্টোদিকে বাড়বাড়ন্ত অসম টি-এর। এই বৈপরীত্য কেন? আন্তর্জাতিক চা দিবসে এই প্রশ্নের উত্তরই খোঁজার চেষ্টা করল bangla.aajtak.in।
লোচন টি লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজীব লোচন এই প্রসঙ্গে বলেন, "মূলত দুটি কারণে দার্জিলিং চা-এর রফতানি কমছে। এর প্রথম কারণ হল নেপাল। মূলত দার্জিলিং থেকে লোক গিয়ে নেপালে চা চাষ জনপ্রিয় করে। অব্যবহৃত কৃষি জমি, ভালো জলবায়ুর সহায়তা পাওয়ায় নেপালের ছোট চা উৎপাদকেরা খুব শীঘ্রই ব্যাপক লাভের মুখ দেখেন। উল্টোদিকে দার্জিলিঙে সব চা বাগানগুলি বৃহত্তর আকারের হওয়ায় এদিকে খরচ বেশি, ফলে নেপালের থেকে পিছিয়ে পড়ে শৈলশহর।" মূলত চা উৎপাদনে বেশি খরচ, পুরনো গাছ, পুরনো মাটির কারণেই নেপালের সঙ্গে চা-এর ব্যবসায় দার্জিলিং পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করেন লোচন টি লিমিটেডের আধিকারিক।
অন্যদিকে, দার্জিলিঙ এখন চা ব্যবসা ছেড়ে ট্যুরিস্ট ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে বলেও দাবি করেছেন লোচন টি লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর । তিনি বলেন, "আগে যে শ্রমিকেরা চা বাগানে কাজ করতেন বা চা শিক্ষিত যুবকেরা চা ফ্যাক্টরি বা বাগানে ম্যানেজারের অধীনে নানা কাজ করতেন, তাঁরা বর্তমানে ফোর স্টার, ফাইভ স্টার হোটেলে চাকরি করছেন। ফলে দার্জিলিঙের ফোকাস এখন চা থেকে সরে গিয়েছে।"
অসম কীভাবে এগিয়ে চলল?
অসমের চা শিল্পের উন্নতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "অসমে যে অর্থোডক্স চা পাওয়া যায় তা দাম ও মানের ক্ষেত্রে বিশ্বে অনন্য। যে অর্থোডক্স চা অসম মাত্র ৩-৪ ডলারে রফতানি করতে পারে, সেই চা চিন-এর মতো দেশ রফতানি করে ১০-১২ ডলারে। ফলে কম দামে ভালো মান দিয়ে অসমের অর্থোডক্স চা বিশ্বের বাজার ধরে ফেলেছে। ইংল্যান্ড, আমেরিকার মতো দেশে অসমের অর্থোডক্স চা-এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এমনকি যে শ্রীলঙ্কার চা রফতানিতে বিখ্যাত, সেই শ্রীলঙ্কাকেও দামের ক্ষেত্রে টক্কর দিয়েছে অসম চা। ফলে অসমের চা শিল্প বহরে বাড়ছে।"
দার্জিলিং কী অর্থোডক্স চা উৎপাদন করতে পারে না?
এই প্রসঙ্গে রাজীব লোচন জানান, অসম অর্থোডক্স চা-এর ক্ষেত্রে কার্যত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। দার্জিলিং, মণিপুরের মতো জায়গার চা উৎপাদকেরা সেই কারণে এই এলাকার চা গুলিকেও অসমের চা হিসেবেই বাজারজাত করার প্রবণতা দেখাচ্ছেন। ফলে দার্জিলিঙের অর্থোডক্স চা অসম অর্থোডক্স টি হিসেবেই মার্কেটে বিকোচ্ছে।