Advertisement

YouTube দেখে Dragon Fruit চাষ, অল্প জমিতেই লাখ টাকা আয় দুই কৃষকের

চাষ করা মানেই প্রচুর জল চাই। কিন্তু মহারাষ্ট্রের জালনা জেলায় সেটারই অভাব। বৃষ্টি কম। জলের অভাবের কারণে সেখানে চাষিদের প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়।

YouTube-কে ‘গুরু’ করে তাঁরা শুরু করেছেন ড্রাগন ফ্রুটের চাষ। YouTube-কে ‘গুরু’ করে তাঁরা শুরু করেছেন ড্রাগন ফ্রুটের চাষ।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 28 Aug 2026,
  • अपडेटेड 9:38 PM IST
  • চাষ করা মানেই প্রচুর জল চাই।
  • কিন্তু মহারাষ্ট্রের জালনা জেলায় সেটারই অভাব।
  • YouTube-কে ‘গুরু’ করে তাঁরা শুরু করেছেন ড্রাগন ফ্রুটের চাষ।

চাষ করা মানেই প্রচুর জল চাই। কিন্তু মহারাষ্ট্রের জালনা জেলায় সেটারই অভাব। বৃষ্টি কম। জলের অভাবের কারণে সেখানে চাষিদের প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি কম জলে কোন চাষ করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হয় তাঁদের। সেই সমস্যারই নতুন সমাধান খুঁজে পেয়েছেন জালনার দুই কৃষক। মোবাইল এবং YouTube-কে ‘গুরু’ করে তাঁরা শুরু করেছেন ড্রাগন ফ্রুটের চাষ। আর প্রথম ফলনেই লাখ লাখ টাকা আয় হবে বলে হিসেব তাঁদের।

জালনার আম্বড তালুকের পিঠোরি সিরসগাঁও গ্রামের কৃষক সম্ভাজি অশোক কাকড়ে এবং নারায়ণ হরিভাউ গোড়ে এই নতুন পথে হেঁটেছেন। ড্রাগন ফ্রুট চাষ শুরু করার আগে তাঁরা মোবাইলের মাধ্যমে এই চাষ সম্পর্কে নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। শুধু অনলাইনে তথ্য দেখেই থেমে থাকেননি। যে কৃষকেরা আগে থেকেই ড্রাগন ফ্রুট চাষ করছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের বাগানেও গিয়ে চাষের পদ্ধতি দেখে আসেন। এর পরেই নিজেদের জমিতে এই ফল চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন।

দেড় একর জমিতে সাড়ে পাঁচ হাজার গাছ
সম্ভাজি কাকড়ে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি দেড় একর জমিতে ড্রাগন ফ্রুটের চারা লাগান। এই চাষ শুরু করতে তাঁর প্রায় ৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।  

সোলাপুর জেলার পন্ধরপুর তালুক থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার চারা নিয়ে আসেন সম্ভাজি। দেড় একর জমিতে সেই চারাগুলি লাগানো হয়। দুটি চারার মধ্যে প্রায় এক ফুট দূরত্ব রাখা হয়েছে।

ড্রাগন ফ্রুট চাষের জন্য প্রয়োজনীয় খুঁটি এবং কাঠামোও নিজেই তৈরি করেছেন সম্ভাজি। ফলে আলাদা করে কাঠামো তৈরির খরচ অনেকটাই কমেছে। তাঁর দাবি, অন্য অনেক ফসলের তুলনায় ড্রাগন ফ্রুট গাছে রোগের আক্রমণ কম হয়। বেশি বৃষ্টি হলেও ফসলের খুব বেশি ক্ষতি হয় না। আবার গরমের সময়ও এই চাষে তুলনামূলক ভাবে কম জল লাগে। জলের সমস্যায় থাকা জালনার মতো এলাকায় এই বিষয়টিই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

প্রথম ফলনেই ১৫ টন ড্রাগন ফ্রুট
সম্ভাজির আশা, প্রথম ফলনেই দেড় একর জমি থেকে প্রায় ১৫ টন ড্রাগন ফ্রুট পাওয়া যেতে পারে। সেই ফলন থেকে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

ড্রাগন ফ্রুটের বাজারে চাহিদা থাকায় সোলাপুর, ছত্রপতি সম্ভাজিনগর এবং পুণের বাজারে নিজেদের বাগানের ফল বিক্রি করেন সম্ভাজি। তাঁর আশা, চাষের খরচ বাদ দিয়েও ভাল টাকা হাতে থাকবে। শুধু নিজের জমিতে নয়, অন্য কৃষকদেরও দলবদ্ধ ভাবে ড্রাগন ফ্রুট চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

একই পথে নারায়ণও
সম্ভাজির সঙ্গে একই পথে হেঁটেছেন কৃষক নারায়ণ হরিভাউ গোড়ে। চাষ শুরু করার আগে তিনিও অন্য কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের ড্রাগন ফ্রুটের বাগান ঘুরে দেখেন। মোবাইলের মাধ্যমে চাষের খুঁটিনাটি জানার পর তিনিও এই ফসল চাষের সিদ্ধান্ত নেন।

নারায়ণ সোলাপুরের পন্ধরপুর তালুক থেকে প্রায় ৬ হাজার চারা আনেন। তার মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার চারা জমিতে লাগানো হয়েছে। ড্রাগন ফ্রুট চাষের জন্য প্রয়োজনীয় খুঁটি ও কাঠামো তিনিও নিজের হাতে তৈরি করেছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে চাষের মোট খরচ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে।

প্রায় ৬ হাজার চারার জন্য পরিবহণ-সহ তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। এখন সাড়ে পাঁচ হাজার গাছ থেকে প্রথম ফলনেই প্রায় সাড়ে সাত থেকে আট লক্ষ টাকা আয় হতে পারে বলে আশা করছেন নারায়ণ।

কম জলে চাষ, ভাল আয়ের আশা
দুই কৃষকের জমিতেই ড্রাগন ফ্রুট গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখা হয়েছে। দুটি খুঁটির মধ্যে প্রায় ১০টি করে গাছ রয়েছে। জালনায় বৃষ্টিপাত কম হওয়া এবং জলের সমস্যা থাকায় ড্রাগন ফ্রুটকে বিকল্প ফসল হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাঁরা।

ড্রাগন ফ্রুট স্বাস্থ্যকর ফল হিসেবে পরিচিত। বাজারেও এই ফলের চাহিদা রয়েছে। ফলে তুলনামূলক কম জল প্রয়োজন এমন চাষের সঙ্গে যদি ভাল দাম পাওয়া যায়, তা হলে কৃষকদের আয় বাড়তে পারে। সেই হিসাবেই নিজেদের জমিতে নতুন পরীক্ষা শুরু করেছেন সম্ভাজি এবং নারায়ণ।

তাঁদের এই উদ্যোগের আরও একটি দিক নজর কাড়ার মতো। শুধু মোবাইল বা YouTube থেকে চাষের তথ্য নিয়ে তাঁরা মাঠে নামেননি। বাজারে কোথায় ফল বিক্রি করবেন, কী ভাবে খরচ কমানো যায় এবং কী ভাবে ভাল ফলন পাওয়া সম্ভব; সব দিক খতিয়ে দেখে তবেই এগিয়েছেন।  

Read more!
Advertisement
Advertisement