
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে রান্নার গ্যাসের উপর প্রভাব পড়েছিল। যার থেকে মুক্তি পায়নি ভারতও। আগামী মে মাস থেকে রান্নার গ্যাস বুকিং ও ডেলিভারির নিয়মে বদলও আসতে পারে। সূত্র মারফত এই খবর মিলেছে।
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ইতিমধ্যেই ১৪.২ কেজি ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সারা দেশে ৬০ টাকা বাড়িয়েছে।
১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে মাত্র এক মাসে তিন দফা দাম বেড়েছিল। এপ্রিল ২০২৬-এ মেট্রো শহরগুলিতে এর দাম ১৯৬ টাকা বাড়িয়ে ২১৮ টাকা করা হয়। এর আগে ৭ মার্চ ১১৪.৫ টাকা এবং ১ মার্চ ২৮–৩১ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। ১ মে ২০২৬ থেকে আবারও এলপিজির দাম সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দাম বাড়বে না কমবে সেই বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কটের পর থেকে বুকিংয়ের নিয়ম কঠোর করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। যেমন শহরের ক্ষেত্রে বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। গ্রামে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন। OTP-ভিত্তিক ডেলিভারি ব্যবস্থা স্থায়ী করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। বর্তমানে প্রায় ৯৮% বুকিং অনলাইনে হচ্ছে এবং প্রায় ৯৪% ডেলিভারি OTP যাচাইকরণের দ্বারা।
আবার প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা গ্রাহকদের জন্য আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক eKYC বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাঁরা এখনও eKYC করেননি, তাঁদেরই করতেই হবে। PMUY গ্রাহকদের বছরে একবার eKYC যথেষ্ট।
এরইমধ্যে সরকার ধীরে ধীরে এলপিজি থেকে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাসে (PNG) রূপান্তরে জোর দিচ্ছে। সেই নিয়ম মোতাবেক PNG ব্যবহারকারীরা নতুন LPG সংযোগ নিতে পারবেন না। PNG থাকলে LPG সংযোগ ছাড়াও দেওয়া যাবে না। এছাড়াও নির্দিষ্ট এলাকায় PNG থাকলেও যদি ৩ মাসের মধ্যে স্যুইচ না করা হয়, তবে LPG সরবরাহ বন্ধ হতে পারে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৫.৪৫ লক্ষ PNG সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ২.৬২ লক্ষের পরিকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে।