
জুলাই মাস শেষের মুখে। আগামী ১ অগাস্ট থেকে বদলে যেতে চলেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নিয়ম। রান্নার গ্যাসের দাম থেকে শুরু করে আয়কর রিটার্ন জমা বা ট্রেনের তৎকাল টিকিট কাটার নিয়মে হচ্ছে পরিবর্তন। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আপনার পকেটে। আগামী মাস থেকে কোন কোন বড় পরিবর্তন ঘটতে চলেছে, যা আপনার জানা অত্যন্ত জরুরি, চোখ রাখা যাক
১। ফ্রিল্যান্সার ও পেশাদারদের জন্য আইটিআর জমার মেয়াদ- সাধারণ করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই। কিন্তু যে সব করদাতার ব্যবসার অ্যাকাউন্ট অডিট করানোর প্রয়োজন পড়ে না, তাঁদের আইটিআর-৩ (ITR-3) বা আইটিআর-৪ (ITR-4) ফর্ম ব্যবহার করে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। এই ধরনের করদাতাদের জন্য আয়কর জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী ৩১ অগস্ট।
২। রান্নার গ্যাসের দাম- অগাস্ট মাসের প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নজর থাকবে এলপিজি সিলিন্ডারের দামে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি প্রতি মাসের ১ তারিখে গ্যাসের দর ঘোষণা করে। চলতি জুলাইয়ের শুরুতে ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দামে কোনও বদল হয়নি। তবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের সিলিন্ডারের দাম ১৮৩ টাকা ৫০ পয়সা কমানো হয়েছিল। অগাস্টে গৃহস্থের গ্যাসের দামে কোনও পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই দেখার।
৩। রেপো রেট- আগামী মাসেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ৩ অগাস্ট থেকে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে। সেখানে রেপো রেট এবং রিভার্স রেপো রেটে কোনও রদবদল করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরবিআই যদি রেপো রেট বাড়ায় বা কোনও পরিবর্তন আনে, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে আপনার ব্যাঙ্কের ইএমআই (EMI), হোম লোন, কার লোন এবং ফিক্সড ডিপোজিটের (FD) সুদের হারের ওপর।
৪। ট্রেনের তৎকাল টিকিট বুকিং- যাঁরা নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য স্বস্তির খবর। ১ অগাস্ট থেকে তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন। ভুয়ো বুকিং ও দালালরাজ রুখতেই এই কড়া পদক্ষেপ রেলের। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে কাউন্টারে তৎকাল টিকিট বুকিং শুরুর নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে টোকেন মেলানোর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রেল রিজার্ভেশন কাউন্টারে ভিড় কমাতে এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য টিকিট কাটার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতেই এই নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।
৫। জিনিসপত্রের দাম- উৎসবের মরশুমের মুখে সকালের চায়ের চুমুক থেকে শুরু করে জামাকাপড়, টিভি, ফ্রিজ বা ওয়াশিং মেশিনের দাম, এক ধাক্কায় সবই বাড়তে পারে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী মাস থেকেই একাধিক ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে এফএমসিজি পণ্য যেমন চা, হেয়ার ওয়েল, সাবানের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। দাম বাড়তে পারে ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন এবং টিভির মতো ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীও ৪ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত দামি হতে পারে। মেমারি চিপের আকাশছোঁয়া দামের কারণে পকেট ভারী হতে পারে স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রেও।