
চিনির সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দামও। এহেন পরিস্থিতিতে সরকার পেঁয়াজের সাপ্লাই বাড়ানো ও দামে নিয়ন্ত্রণের জন্য কড়া পদক্ষেপ করল। নাসিক থেকে দেশের বিভিন্ন প্রধান ভোক্তা কেন্দ্রে পেঁয়াজ পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাফার স্টক থেকে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
পেঁয়াজের দামবৃদ্ধি ঠেকাতে
সরকারের টার্গেট হল, বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের জোগান বজায় রাখা এবং আচমকা দাম বাড়া ঠেকানো। মোদী সরকারের বক্তব্য, অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণত মরসুমি কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ে। উৎসবের মরসুমে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলার সমস্যাও দামের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রথম পর্যায়ে ৫ শহরে সরবরাহ
প্রাথমিকভাবে পাঁচটি বড় ভোক্তা কেন্দ্রকে চিহ্নিত করেছে সরকার। এগুলি হল, চেন্নাই, মাদুরাই, দিল্লি, কোচি এবং গুয়াহাটি। নাসিক থেকে এই শহরগুলিতে পেঁয়াজ পাঠানো হবে। বাজারের চাহিদা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও শহরকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হতে পারে।
দেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আগামী মাসগুলিতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে দেশে প্রায় ৩০৭.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের অনুমান করা হয়েছে। গত বছর উৎপাদন ছিল প্রায় ৩০৭.৬৭ লক্ষ মেট্রিক টন। অর্থাৎ উৎপাদনে বড় কোনও ঘাটতি নেই। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে বড় ধরনের সরবরাহ সঙ্কট হিসেবে দেখছে না সরকার।
বাফার স্টক থেকেও বাজারে পেঁয়াজ
বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে বাফার স্টক থেকেও পেঁয়াজ ছাড়া হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে এই পেঁয়াজ বাজারে দেওয়া হচ্ছে, যাতে হঠাৎ করে দাম বেড়ে না যায়। পেঁয়াজ পরিবহণে রেলের ‘কান্দা এক্সপ্রেস’-ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৮৮,০০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়েছে। মোট ৮৬টি রেলগাড়ি ব্যবহার করে ১৬টি প্রধান শহরে পেঁয়াজ পরিবহণ করা হয়েছে।