
আবার উত্তপ্ত হচ্ছে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি। কার্যত বন্ধ হরমুজ। ভারতের জাহাজও আসতে পারছে না। যার ফলে সারা বিশ্বেই তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকবে হরমুজ। এখান থেকে কোনও জাহাজ গেলেই তার উপর হামলা হবে। কিছুই জিজ্ঞাসা হবে না।
আর ট্রাম্পের এহেন ঘোষণা এবং ইরানের অদ্ভুত আচরণে বেজায় সমস্যায় পড়েছে তেল আমদানিকারী একাধিক দেশ। এই সব দেশগুলি সময় মতো তেল পাচ্ছে না। পাশাপাশি সারা বিশ্বেই তেলের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। যার ফলে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই নিয়ে পরপর পাঁচদিন দাম বাড়ল অপরিশোধিত তেলের। আর এই দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাড়ল তেলের দাম
ইরান এবং আমেরিকার যুদ্ধ আবহের মধ্যেই বাড়ছে তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১.২৩ শতাংশ বা ১.১৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬.৩ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। ও দিকে একই হাল ডব্লুটিআই ক্রুড অয়েলের। এটির দামও ১.০৭ শতাংশ বা ১.১২ শতাংশ বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ৯৬.৯২ শতাংশে। বৃহস্পতিবার এই দুই সূচকই ৩ শতাংশের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৫ ডলার।
কেন এই পরিস্থিতি?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চুক্তি হয়নি। এমন পরিস্থিতি দুই দেশই চাইছে একে অপরকে অর্থনীতির অঙ্কে চাপে রাখার। ইরান চাইছে হরমুজের সব জাহাজ যেন তাদের জিজ্ঞেস করেই পার হয়। আবার এই দাবি মানতে নারাজ আমেরিকা। তারা এই প্রণালী পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। পাশাপাশি আমেরিকার নেভি এবার ইরানের বন্দর অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সেই সঙ্গে ইজরায়েল হুমকি দিয়ে জানিয়েছে যে আমেরিকা একবার গ্রিন সিগন্যাল দিলেই হামলা হবে ইরানে। আর তাতেই দাম বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের।
তেলের দাম কতদূর যেতে পারে?
হেইটং ফিউচারের মতে, নেগোশিয়েশন খেলা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম নতুন উচ্চতা ছুঁতে পারে। এমনটাই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়ার্স।
এই বিষয়ে নিওয়ামা ইনস্টিটিউট ইকুইটিস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তেলের দাম ১১০ ডলার থেকে ১৫০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। আর এমনটা হলে যে ভারতেও পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাবে, এই কথা তো বলাই বাহুল্য!