
নভেম্বর মাসের জন্যও তেল উৎপাদন একই রাখার সিদ্ধান্ত নিল ওপেকভুক্ত দেশগুলি। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থাতেও তেল উৎপাদন না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, পরিস্থিতি বিচার করে এদিকে, জি৭ দেশগুলো শুক্রবার ডিজেলসহ ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও জ্বালানি পণ্য ছাড়ার ঘোষণা করেছে।
ওপেক+ এর এই উপগোষ্ঠীতে রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমান। রবিবারের বৈঠকে এই সাতটি দেশ নভেম্বরে উৎপাদন বাড়ানো বা কমানো হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মানে হল, তেলের সরবরাহ এখনকার মতোই থাকবে। বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গোষ্ঠীটি ১ নভেম্বর ফের বৈঠকে বসবে। আপাতত এক মাস বাড়ছে না তেল উৎপাদন।
তেলের দাম এত বেশি কেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর কারণ হল ইরানের সঙ্গে মার্কিন সংঘাত। এই যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত করেছে। ফলে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী। ব্রেন্ট ক্রুডকে তেলের দামের বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাই এর ১০০ ডলার অতিক্রম করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এমন অবস্থায় জি৭-এর আওতায় থাকা দেশ অর্থাৎ আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং জাপানও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশগুলি আগামী সপ্তাহ থেকেই ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও জ্বালানি পণ্য ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। যার প্রথম দফাতেই থাকবে ডিজেল।
ভারতে পেট্রোল, ডিজেলের সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির সম্পর্ক কোথায়?
ভারত-সহ বিশ্বের একাধিক দেশ নিজেদের প্রয়োজনের সিংহভাগ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম বাড়লে তেল শোধন করে পেট্রোল-ডিজেল তৈরির সামগ্রিক খরচ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার অপরিশোধিত তেলের দাম পেট্রোল-ডিজেলের দামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কিন্তু একমাত্র নির্ধারক নয়। কারণ, দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দামের ক্ষেত্রে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি আমদানি খরচ, শোধন ও পরিবহণের খরচ, কেন্দ্র ও রাজ্যের কর, তেল সরবরাহকারী সংস্থা ও সরকারি ছাড়েরও বিষয় থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুডের দাম বাড়লেই ভারতেও যে পেট্রোল, ডিজেলের দাম এখনই বাড়বে, এত সরলীকরণ হিসেব না করাই শ্রেয়।