
পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্ক লিমিটেডকে (PPBL) পাকাপাকিভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। মঙ্গলবার গভীর রাতে এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টকে করে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আরবিআই জানিয়েছে, টানা অনিয়মের জেরে আগেই ওই ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। আদালত নির্দেশ দেওয়ায় ব্যাঙ্ক বন্ধের আইনি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছল।
বলে রাখি, গত ২৪ এপ্রিল ব্যাঙ্কিং রেগুলেশন অ্যাক্টের ২২(৪) ধারা প্রয়োগ করে পিপিবিএলের লাইসেন্স রদ করেছিল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। সেই সময়েই আরবিআই জানিয়েছিল, ব্যাঙ্ক বন্ধ করার জন্য আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে তারা। হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাঙ্কটির লিকুইডেশন প্রক্রিয়া শুরু হল।
Paytm UPI কী হবে?
পেটিএম ব্যবহারকারীদের আশঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। ইউপিআই (UPI) বা রোজকার ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে এই নির্দেশের কোনও প্রভাব পড়বে না। সেই সমস্ত লেনদেন আগের মতোই সচল থাকবে। একই ভাবে নিষ্কণ্টক থাকছে পেটিএম ওয়ালেটে রাখা টাকাও। ওই অর্থ ব্যবহার করে কেনাকাটা, রিচার্জ কিংবা বিদ্যুৎ-ফোনের বিল মেটানোর মতো কাজ স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। ব্যবসায়ী বা দোকানিদের ব্যবহৃত কিউআর কোড, সাউন্ডবক্স, পয়েন্ট অফ সেলস কার্ড মেশিন এবং পেমেন্ট গেটওয়ে পরিষেবা ব্যাহত হবে না। পাশাপাশি পেটিএম গোল্ড এবং পেটিএম মানির মাধ্যমে বিনিয়োগের পথও খোলা থাকছে।
ব্যাঙ্কের পেটিএম অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে জানিয়েছে আরবিআই। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের স্পষ্ট বার্তা, পিপিবিএলের ভাঁড়ারে যে পরিমাণ তহবিল রয়েছে, তা দিয়ে সমস্ত গ্রাহকের পাওনা টাকা কড়ায়-গণ্ডায় মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব।
SBI-এর প্রাক্তন কর্তা লিকুইডেটর
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন চিফ জেনারেল ম্যানেজার গিরিকুমার এম নায়ারকে পিপিবিএলের ‘অফিসিয়াল লিকুইডেটর’ হিসেবে নিয়োগ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। আরবিআই জানিয়েছে, ব্যাঙ্কিং রেগুলেশন আইন এবং কোম্পানি আইনের অধীনে যাবতীয় অধিকার দেওয়া হয়েছে তাঁকে। চলতি বছরের ৮ জুলাই থেকেই ব্যাঙ্কের বোর্ড অব ডিরেক্টসের ক্ষমতা তাঁর হাতে রয়েছে। ব্যাঙ্কের দৈনন্দিন কাজকর্মে এখন থেকে তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
সংকটের কারণ কী?
২০১৭ সালে লাইসেন্স পায় পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্ক। কিন্তু অনিয়মের জেরে ২০২২ সালের মার্চ মাসেই কড়া পদক্ষেপ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। নতুন গ্রাহক নেওয়ায় জারি হয় নিষেধাজ্ঞা। ২০২৪ সালের গোড়াতেই ব্যাঙ্কের আমানত নেওয়া, ক্রেডিট দেওয়া, ফাস্ট্যাগ বা ওয়ালেটে টাকা ভরার মতো পরিষেবাগুলি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ধারাবাহিক পদক্ষেপের চূড়ান্ত ধাপ হিসাবে ২০২৬-এর এপ্রিলে বাতিল হয় লাইসেন্স। আর এবার দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে পাকাপাকিভাবে বন্ধ।