
আবারও বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি তেলের খুচরো বিক্রেতা সংস্থাগুলির অন্যতম নায়রা এনার্জি পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিল। আজ, শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন দাম। পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা বেড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
শনিবার সকাল থেকেই গোটা দেশে নায়রার ৭,১০৮টি পাম্পে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে ইরানে চলতে থাকা সংঘাতের জেরে জ্বালানির জোগানে সমস্যা থাকায় গত ২৬ মার্চ পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়েছিল নায়রা। সেবারও একই হারে দাম বাড়ানো হয়েছিল। পরে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত কমার পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দামও কমে গেলে ১ জুলাই সেই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করে নেয় সংস্থা। তবে ফের একবার জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
কেন দাম বাড়ল?
অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে বিকোচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তে থাকা খরচের চাপ কিছুটা কমাতেই বেসরকারি জ্বালানি সংস্থাটির এই সিদ্ধান্ত। তবে শুধু নায়রা এনার্জিই পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে।
তবে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এখনও পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। দেশে মোট ১,০৪,১৩৭টি পেট্রোল পাম্পের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি পাম্প রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির হাতে
কয়েক দিন আগেই খুচরো বিক্রিতে লোকসানের কথা মাথায় রেখে নায়রা এবং জিও বিপি কয়েকটি পাম্পে জ্বালানি বিক্রির পরিমাণ সীমিত করেছিল। এর পর ১ অক্টোবর কেন্দ্র জানিয়েছিল, বেসরকারি খুচরো জ্বালানি বিক্রেতাদের নিজেদের আউটলেটে পেট্রোল ও ডিজেলের বিক্রি সীমিত করা উচিত নয়। তাদের যুক্তি ছিল, খুচরো এবং পাইকারি ডিজেলের দামের মধ্যে পার্থক্যের কারণে শিল্প সংস্থাগুলি খুচরো পাম্প থেকে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি কিনতে শুরু করেছে। ফলে খুচরো বাজারে জ্বালানির জোগান ধাক্কা খাচ্ছে।
গুজরাতের ভাদিনারে বছরে ২ কোটি টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি শোধনাগার রয়েছে নায়রার। গোটা দেশে সংস্থাটির সাত হাজারেরও বেশি ফুয়েল স্টেশন রয়েছে। এবার অন্যান্য খুচরো বিক্রেতারাও যদি দাম বাড়ায়, তা হলে জ্বালানির খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে জিনিসপত্রের দামে।