
গত ৫ দিনে দু বার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়। ফের মহার্ঘ হতে পারে দুই জ্বালানিই। কারণ তোল কোম্পানিগুলি যে লোকসান করেছে তা পুষিয়ে নিতে চায়। সেক্ষেত্রে তাদের মূল্যবৃদ্ধি করতেই হবে। এমনটাই খবর সূত্রের।
এমন আশঙ্কার কারণ পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মার বক্তব্য। সোমবার তিনি জানিয়েছেন, তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে। তিনি এও জানান, ১৫ মে মূল্যবৃদ্ধির ফলে লোকসান এক-চতুর্থাংশ কমেছে।
এদিকে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মুদ্রাস্ফীতির বৃদ্ধি সীমিত রাখাই ছিল জ্বালানির দাম ধীরে ধীরে বাড়ানোর কারণ। তবে তিনি এও দাবি করেন, তেল কোম্পানিগুলি দাম কমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
তবে মূল্যবৃদ্ধি হলেও জ্বালানির চাহিদা কমার কোনও কারণ নেই বলেও দাবি করেন ওই আধিকারিক। তবে জ্বালানির দাম যে এখনও কমানোর সম্ভাবনা নেই সেই কথা স্পষ্ট করে ইঙ্গিত দেন, 'এরপর কতটা মূল্যবৃদ্ধি হবে, তা নিয়েও কোনো বিবেচনা করা হয়নি।'
প্রসঙ্গত, মেট্রো শহরের মধ্যে পেট্রোল- ডিজেলের সবচেয়ে দাম বেড়েছে কলকাতাতেই। এদিন কলকাতায় লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৯৬ পয়সা। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম বেড়েছে লিটার প্রতি ৯৪ পয়সা। ফলে কলকাতায় পেট্রোলের লিটার প্রতি নতুন দাম হয়েছে ১০৯.৭০ টাকা। অন্যদিকে, ডিজেলের লিটার প্রতি লিটারে ৯৬.০৭ টাকা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হানায় এবং তেহরানের পাল্টা আক্রমণে তেল সঙ্কটে ধুঁকতে শুরু করে বিশ্ব। কারণ ইরান থেকে তেল আসা অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল। তার জেরে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়।
অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়া সত্ত্বেও, খুচরো জ্বালানির দর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। তবে বিজেপি বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছিল, অসম-পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে ভোটের পরই তেলের দাম বাড়ানো হবে। যদিও বিজেপির তরফে অভিযোগ খারিজ করে সাফ জানানো হয়েছিল, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।