
PM Narendra Modi: ইরান-আমেরিকা সংঘাত। জ্বালানির দাম উর্ধ্বমুখী। এমতাবস্থায় দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এক বছরের জন্য সোনা না কেনার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমানো, ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের উপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমাতেই এই বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি দেশবাসীর কাছে আবেদন করছি, অন্তত এক বছরের জন্য বিয়ের অনুষ্ঠানে সোনা কেনা বন্ধ রাখুন।' তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ভারতে সোনা শুধু অলঙ্কার নয়, বহু পরিবারের কাছে তা সঞ্চয় এবং সামাজিক রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে বাঙালি এবং ভারতীয় বিয়েতে সোনার গয়নার গুরুত্ব দীর্ঘদিনের।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোনা আমদানিকারী দেশ। পাশাপাশি দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেলও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই দুই ক্ষেত্রেই বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলার খরচ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এবং একই সময়ে সোনার আমদানি বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারের উপর চাপ আরও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সেই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১২৬ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের আমদানি ব্যয়ের উপর। একই সঙ্গে ডলারের তুলনায় টাকার দামও দুর্বল হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, তেল আমদানি কমানো ভারতের পক্ষে সহজ নয়। কারণ পরিবহণ, শিল্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সোনার আমদানিকে তুলনামূলক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সেই কারণেই সোনা কেনা কমানোর আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্র।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, যখন বিপুল সংখ্যক মানুষ বিদেশি সোনা কেনেন, তখন সেই আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ ডলার দেশ থেকে বেরিয়ে যায়। এর ফলে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা আমদানি-রফতানির ঘাটতি বাড়ে। টাকার উপর আরও চাপ তৈরি হয়। টাকার দাম কমে গেলে আবার তেল-সহ অন্যান্য আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির চাপও বাড়তে থাকে।
এমন পরিস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও সোনার আমদানি কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল কেন্দ্র। কখনও সোনার উপর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, কখনও গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্প বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য ছিল একটাই; বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমানো এবং টাকার স্থিতি বজায় রাখা।
প্রধানমন্ত্রী এ বার শুধু সোনা নয়, জ্বালানি সাশ্রয় নিয়েও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, 'পেট্রোল-ডিজেলের দাম বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত বেড়েছে। তাই জ্বালানি বাঁচানো এখন প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।' সেই কারণেই করোনা পর্বের মতো আবারও ওয়ার্ক ফ্রম হোম, অনলাইন মিটিং এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।