Advertisement

Repo Rate : রেপো রেট নিয়ে বড় আপডেট RBI-এর,সুদের হার কি কমে গেল?

মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে RBI। অসম দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টি এবং এল নিনো পরিস্থিতি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যের দামের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

রেপো রেট নিয়ে খবর রেপো রেট নিয়ে খবর
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 19 Aug 2026,
  • अपडेटेड 7:48 PM IST
  • মূল্যবৃদ্ধি যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন সুদের হার কমালে বাজারে চাহিদা আরও বাড়তে পারে
  • ফলে মূল্যবৃদ্ধির উপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে

খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ায় দেশে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থান নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) মনিটারি পলিসি কমিটি (MPC)। নীতিগত রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। অর্থাৎ, আপাতত সুদের হার কমানোও হল না, আবার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর পথেও হাঁটল না RBI।

MPC-এর ছয় সদস্যই রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। একইসঙ্গে নিরপেক্ষ এবং নীতি অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF) রেট ৫ শতাংশেই রয়েছে। অন্যদিকে, মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (MSF) এবং ব্যাঙ্ক রেট রয়েছে ৫.৫০ শতাংশে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া রেপো রেটে সুদের হার সস্তা করলে দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কগুলিও পরপর তাদের লোনের উপর সুদের হার কমিয়ে দেয়। কিন্তু এবারে রেপো রেট স্থির থাকায় গাড়ি-বাড়ির মতো লোনের সুদের হারও একই থাকবে বলে আশা করা যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হল, রেপো রেট বৃদ্ধি না হওয়া। বাড়লে লোনের উপর EMI আরও বেড়ে যেতে পারে।

কেন সুদের হার অপরিবর্তিত রাখল RBI?

২০২৬ সালের জুনে ভারতের হেডলাইন CPI বা খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়ে হয়েছে ৪.৪ শতাংশ। এর আগে টানা ১৬ মাস RBI-এর নির্ধারিত ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে ছিল মূল্যবৃদ্ধি। মে ও জুন মাসে একাধিক খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির হার বাড়িয়েছে।

তবে MPC জানিয়েছে, মূল্যবৃদ্ধি এখনও অর্থনীতির সর্বত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার তেমন প্রমাণ নেই। মে-জুনে কোর ইনফ্লেশন বা খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির উপাদান বাদ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৩.৯ শতাংশ। মূল্যবান ধাতুর দাম বাদ দিলে কোর ইনফ্লেশন আরও কম ছিল।

এই বিষয়টি RBI-এর নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বড় অংশই সরবরাহজনিত কারণে তৈরি হচ্ছে। যেমন খাদ্যপণ্যের দাম, জ্বালানির খরচ এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব। ফলে এখনই সুদের হার বাড়ালেও মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণগুলির উপর তার প্রভাব সীমিত হতে পারে।

Advertisement

অন্যদিকে, মূল্যবৃদ্ধি যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন সুদের হার কমালে বাজারে চাহিদা আরও বাড়তে পারে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির উপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পথেই হাঁটল MPC।

খাদ্য, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

আগামী কয়েক মাসে মূল্যবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে RBI। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে CPI মূল্যবৃদ্ধি ৫.৯ শতাংশে পৌঁছতে পারে। চতুর্থ ত্রৈমাসিকে তা কিছুটা কমে ৫.৫ শতাংশে নামতে পারে। পুরো অর্থবর্ষে মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস রাখা হয়েছে ৫ শতাংশে।

মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে RBI। অসম দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টি এবং এল নিনো পরিস্থিতি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যের দামের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাও মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।

খাদ্য, জ্বালানি ও উৎপাদন খরচের চাপ যদি পরবর্তীতে অন্যান্য পণ্য ও পরিষেবার দামেও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে মূল্যবৃদ্ধি আরও ব্যাপক আকার নিতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ধরনের ব্যাপক প্রভাবের খুব বেশি প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে MPC।

অর্থনীতি শক্তিশালী, তাই অপেক্ষা করার সুযোগ RBI-এর

অন্যদিকে, ভারতের অর্থনীতি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে অর্থনীতিকে বাড়তি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সুদের হার কমানোর জরুরি প্রয়োজন দেখছে না কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের প্রকৃত GDP বৃদ্ধির হার ৬.৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে RBI। ব্যক্তিগত খরচ, বিনিয়োগ, পরিষেবা রফতানি, ঋণের বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো খাতে ব্যয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছে।

দেশীয় চাহিদাও শক্তিশালী রয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের কার্যকলাপও বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিকূলতা থাকলেও ভারতের অর্থনীতি এখনও স্থিতিশীল গতিতে এগোচ্ছে বলে মনে করছে RBI।

এই পরিস্থিতিতে একদিকে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি এবং অন্যদিকে অর্থনীতির শক্তিশালী বৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে MPC। তাই আপাতত কোনও দিকেই তাড়াহুড়ো না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Read more!
Advertisement
Advertisement