
বেঙ্গালুরুর তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের আসল প্রতিষ্ঠাতা বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। এমনটাই দাবি করলেন অর্থনীতিবিদ তথা প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল। কেন এমন দাবি করলেন? তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। সেই সঙ্গে কলকাতার অর্থনীতির বেহাল অবস্থার জন্য কয়েক দশক ধরে শিল্পের প্রতি বিরূপ মনোভাবকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, এক সময় ভারতের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র ছিল কলকাতা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে নানা কারণে সেই অবস্থান হারিয়েছে শহর।
একটি পডকাস্টে কলকাতার অর্থনৈতিক অতীতের কথা মনে করিয়ে দেন সঞ্জীব সান্যাল। তাঁর কথায়,'দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উত্থানের সময় কলকাতারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এমনকি বড় মেনফ্রেম কম্পিউটার নিয়ে আইবিএম কলকাতায় আসার সময় ওই সংস্থার বিরুদ্ধে শহরে ধর্মঘট হয়েছিল। তিনি যোগ করেন,'আমার স্পষ্ট মনে আছে, আইবিএম যখন বড় মেনফ্রেম কম্পিউটার নিয়ে কলকাতায় আসছিল, তখন তার বিরোধিতায় কলকাতায় ধর্মঘট হয়েছিল। বেঙ্গালুরুর তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা জ্যোতি বসুকেই বলা যেতে পারে। সেই সময় সমস্ত প্রতিভা কলকাতা ছেড়ে বেঙ্গালুরু চলে গিয়েছিল'।
মাথা পিছু আয়ে পিছিয়েছে বাংলা
সান্যালের কথায়,'গত ৫০ বছরে দেশের তুলনায় বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়েছে। ১৯৬০-৬১ সালে দেশের গড় মাথাপিছু আয়ের তুলনায় বাংলার মাথাপিছু আয় ছিল ২৭ শতাংশ বেশি। বর্তমানে তা জাতীয় গড়ের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি কম'।
পরিকল্পনা করে কলকাতাকে শেষ?
কলকাতার অতীতের কথা বলতে গিয়ে সান্যাল বলেন,'১৯৭০ সালে যখন আমার জন্ম। তখনও কলকাতা ভারতের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র ছিল। মুম্বই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে উঠে আসছিল ঠিকই, কিন্তু কলকাতাই তখন দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পকেন্দ্র ছিল। সেই সময় কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জও ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি শেয়ার বাজার। দেশের একাধিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল এই শহর। এমনকি তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পেরও বড় অংশ কলকাতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। এগুলিকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল'।
জ্যোতির আমলে 'কারাখানা বন্ধ'
১৯৭৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। ২৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। সেই সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল বাম সরকারের শিল্প নীতি। বিরোধীদের অভিযোগ, শ্রমিক ইউনিয়নগুলির দাদাগিরিতে রাজ্যে বিনিয়োগ আসেনি। পাততাড়ি গোটাতে শুরু করে একের পর এক শিল্প।
২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ১৫ বছর রাজ্য শাসনের পর ২০২৬ সালের মে মাসে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারায় তৃণমূল।
ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কলকাতা?
কলকাতার শিল্প সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে সঞ্জীব সান্যাল বলেন,'একটি মহানগরের যাবতীয় পরিকাঠামো রয়েছে কলকাতায়। রয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ৫০ বছর ধরে অবক্ষয়ের পরেও কিছু শিল্প এখনও টিকে রয়েছে। আর রয়েছে এমন একটি সময়ের স্মৃতি, যখন কলকাতা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র'।