
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-র গ্রাহকদের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। সাইবার হামলায় যে সব গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তাঁদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইমেল এবং WhatsApp-এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে SBI। একইসঙ্গে ব্যাঙ্কের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা এবং ব্যালান্স সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।
এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে SBI জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সাইবার হামলার ঘটনা সম্পর্কে আগেই জানানো হয়েছিল। এবার যে সমস্ত গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে, তাঁদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে ইমেল অথবা WhatsApp-এর মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে।
ব্যাঙ্কের তরফে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স এবং তাঁদের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে লেনদেনের সময় নিরাপদ ব্যাঙ্কিংয়ের নিয়ম মেনে চলার কথাও জানিয়েছে SBI।
বিশেষভাবে গ্রাহকদের OTP, PIN এবং পাসওয়ার্ড কারও সঙ্গে ভাগ করে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক ফোন, মেসেজ এবং ইমেল সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে বলেছে ব্যাঙ্ক।
প্রায় ৩৯০০ গ্রাহকের তথ্য ফাঁস
সম্প্রতি SBI জানিয়েছিল, সাইবার হামলার জেরে ৩ হাজার ৮৯৭ জন গ্রাহকের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল গ্রাহকদের নাম, ইমেল ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং ঋণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য।
Siriusim নামে একটি হ্যাকার গোষ্ঠী SBI-এর সিস্টেমে হানা দেওয়ার দাবি করেছিল। তাদের দাবি ছিল, চুরি করা তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। যদিও এই হামলার উৎস সম্পর্কে SBI নির্দিষ্ট করে কারও নাম জানায়নি।
গত ১৬ অক্টোবর SBI-এর কাছে সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের বিষয়ে সতর্কবার্তা আসে। ব্যাঙ্কের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, ডিফেন্স সাইবার এজেন্সি এবং ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (CERT-In) এই সতর্কবার্তা দিয়েছিল।
ব্যাঙ্কের পরিষেবায় কী প্রভাব পড়েছে?
এর আগে SBI জানিয়েছিল, এই সাইবার হামলার ফলে তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক পারফরম্যান্স অথবা পরিষেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনও প্রভাব পড়েনি। ব্যাঙ্কের বক্তব্য, গ্রাহকদের আর্থিক সম্পদ, তথ্য এবং তাঁদের বিশ্বাসের সুরক্ষা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে SBI।
অন্যদিকে, হ্যাকার গোষ্ঠীটি এর আগে দাবি করেছিল, তাদের হাতে CSV ফরম্যাটে ৩.৭৫ লক্ষ তথ্যের সারি এবং ২ হাজার ৭২২টি PDF ফাইল রয়েছে। এই ফাইলগুলিতে সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্যও রয়েছে বলে দাবি করেছিল তারা। তবে SBI-র প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ৩ হাজার ৮৯৭ জন গ্রাহকের তথ্য জড়িত থাকার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রাহকদের তাই অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনও অপরিচিত ব্যক্তিকে OTP, PIN বা পাসওয়ার্ড না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।