
বৃহস্পতিবার খুলতেই শেয়ারবাজারে ক্র্যাশ। একাদশীতে লালে লাল স্টকমার্কেট। কোটি কোটি টাকা ডুবে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। এ দিন মার্কেট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সেনসেক্স পড়ে যায় ৭০ পয়েন্ট। ও দিকে ২০০ পয়েন্টের বেশি নেমে যায় নিফটি। এ দিন খারাপ হাল হয়েছে মারুতি, টাটা স্টিল ও বেইএল-এর মতো শক্তিশালী শেয়ারগুলির। তাতেই মার্কেটে প্যানিক শুরু হয়ে গিয়েছে।
সেনসেক্স ও নিফটিতে ধস
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শেয়ারাবাজারের হাল খারাপ। বিএসই সেনসেক্স পড়েছে অনেকটাই। আগের দিনের ক্লোজিং ৭৩,৭০৯ পয়েন্ট থেকে নেমে ৭৩,৩৪৩-তে খোলে এটি। ওপেনিং-এর পর আরও তলিয়ে যায় বাজার। এটি ৭০০ পয়েন্টের বেশি নেমেছে ৭৩০০৫ পয়েন্টে চলে আসে।
ওদিকে একই হাল রয়েছে নিফটিরও। এই সূচকটি আগের দিনের ক্লোজিং ২২,৮১১ এর থেকে বেশ কিছুটা নেমে ২২,৬৮৭-তে খোলে। তারপর আরও নেমে যায় নিফটি। এটি ২২,৫৫৭-এ ট্রেড করতে শুরু করে।
কোন কোন স্টকে বড় ধস?
শেয়ারবাজারে আজ বিরাট পতন হয়েছে। বিএসই লার্জক্যাপ সেকশনে ৩০টি শেয়ারের মধ্যে ২৮টি রেড জোনে ছিল। এক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিড শেয়ার ২.৬০ শতাংশ, বিইএল শেয়ার ২.২৫ শতাংশ, মারুতি শেয়ার ২ শতাংশ, টাটা স্টিল শেয়ার ১.৯৯ শতাংশ পড়েছে। এছাড়া এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ার ১.৮০ শতাংশ, এশিয়ান পেইন্টস শেয়ার ১.৭০ শতাংশ কমেছে।
গতকালও শেয়ারবাজার ধসের মুখে পড়েছিল
গতকালও পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজার। তবে বুধবার দুই সূচকের আচরণ ছিল অবাক করা। দিনের শুরুতেই দুই সূচকই অনেকটা বেড়ে যায়। সেনসেক্স বৃদ্ধি পায় ৮০০ পয়েন্ট। আর নিফটি প্রায় ২০০ পয়েন্ট লাফিয়েছে।
তারপরই শুরু হয়ে যায় প্রফিট বুকিং। কিছুটা সময়ের মধ্যে দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ১৪০০ পয়েন্ট তলিয়ে যায় সেনসেক্স। দিনের শেষে এটি ১৪৩ পয়েন্ট কমে ৭৩,৭০৩ পয়েন্টে শেষ করে। আর নিফটি ৫০ সূচক ৭৭ পয়েন্ট নেমে ২২,৮১১-তে ক্লোজিং দেয়। তারপর বৃহস্পতিবারও খারাপ শুরু করল দুই সূচকই।
কেন পড়ছে বাজার?
শেয়ারবাজারে যে বড়সড় পতন আসতে চলেছে, সেটা অনুমান করাই যাচ্ছিল। কারণ, এশিয়ার একাধিক শেয়ারবাজারের হাল ছিল খারাপ। জাপানের নিক্কেই ১০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছে। হংকং-এর হ্যাংসেং পড়েছে ৬০০ পয়েন্ট। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপিও নেমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। তারপর যে ভারতের শেয়ারবাজারের হাল খারাপ হবে, এই কথা তো বলাই বাহুল্য।