
গত কয়েক সপ্তাহে ধরে বেড়ে চলেছে চিনির দাম। আসন্ন উৎসবের মরসুমের আগে উদ্বেগ। আগামী দিনে কি আরও বাড়তে পারে চিনির দাম? ইন্ডিয়া টুডেকে এক সাক্ষাৎকারে কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অশোক গুলাটি জানিয়েছেন, দেশে চিনি উৎপাদন এবং মজুত কমে যাওয়ার কারণেই দাম বেড়েছে। পাশাপাশি, ইথানল তৈরির জন্য আখের ব্যবহার বাড়ায় চিনির জোগানে প্রভাব পড়েছে বলে তাঁর দাবি।
অশোক গুলাটি জানিয়েছেন, দেশে মরসুমের শুরুতে চিনির মজুত প্রায় ৮০ লক্ষ টন ছিল। তা কমে এখন প্রায় ৫০ লক্ষ টনে দাঁড়িয়েছে। ফলে বাজারে চিনির জোগানে বড়সড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গুলাটির মতে, সম্ভাব্য চিনির সঙ্কটের বিষয়টি সরকারে আরও আগেই বোঝা উচিত ছিল। সেই অনুযায়ী দরকার ছিল পরিকল্পনাও। তাঁর বক্তব্য, সরকারকে ৪-৫ মাস আগেই চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। তা হলে বাজারে চিনির জোগানে ঘাটতি তৈরি হত না।
ইথানল দায়ী?
অশোক গুলাটির দাবি, দেশে চিনির উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। তাঁর মতে, ইথানল তৈরির জন্য আখের যে পরিমাণ ব্যবহার হচ্ছে, তা পরিসংখ্যানের হিসাবে যতটা দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে তার প্রভাব আরও বেশি। আর এটাই চিনির জোগান কমে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ।
গুলাটির মতে, চিনি নাকি ইথানল, কী উৎপাদন করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়া উচিত কৃষক এবং চিনিকলগুলির হাতে। উদাহরণ হিসেবে ব্রাজিলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,'সেখানে বাজারদরের উপর নির্ভর করে চিনি বা ইথানলের উৎপাদন'।
দায় এড়াতে পারে না সরকার
চিনির দাম বৃদ্ধি নিয়ে সরকার নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারে না বলেও মনে করেন অশোক। ভবিষ্যতে চিনির দাম আরও বাড়তে পারে, তার ইঙ্গিত কয়েক মাস আগেই পাওয়া গিয়েছিল। তিনি জানান,'দেশে চিনির মজুত ৯ বছরের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। বিদেশ থেকে চিনি আমদানির অনুমতি সরকারকে আরও অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিল'।
কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত?
গুলাটির মতে, সরকারের হাতে একাধিক বিকল্প ছিল। বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করা যেত। দেশের আখ ইথানলের দিকে না সরিয়ে বিদেশ থেকে ইথানল আমদানি করতে হত। এছাড়া ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার মজুত থেকে চাল ব্যবহার করে মিলগুলিকে আরও বেশি চিনি উৎপাদনে উৎসাহিত করার পথও খোলা ছিল। চিনির উপরে ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক থাকায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হওয়ার পরেও দ্রুত বিদেশি চিনি আনার সুযোগ তৈরি হয়নি।
আরও বাড়তে পারে দাম?
চিনির দাম কমার আগে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গুলাটি। বিশেষ করে সামনে উৎসবের মরসুম। ফলে চাহিদা আরও বাড়বে। তাঁর মতে, আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ বিদেশ থেকে নতুন করে চিনি আনতে সময় লাগবে।
সরকারি নিয়ন্ত্রণে চিনি
ভারতের চিনিশিল্পের নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেছেন এই কৃষি অর্থনীতিবিদ। তাঁর দাবি, কৃষিক্ষেত্রের মধ্যে চিনিশিল্পই সরকারের সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণাধীন। আখের দাম থেকে শুরু করে কারখানা থেকে বেরোনোর সময় চিনির দাম, এমনকি একটি চিনিকল বাজারে কতটা চিনি ছাড়তে পারবে, সব ক্ষেত্রেই সরকারি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাঁর কথায়,'পৃথিবীর কোথাও এই ধরনের ব্যবস্থা নেই। আপনি যখন চিনির অর্থনীতির প্রতিটি ধাপ নিয়ন্ত্রণ করছেন, তখন শেষ পর্যন্ত সরকারকেই এর দায় নিতে হবে'।