
চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী। এবার উৎসবের মরসুম শুরুর আগেই চিনি মজুতের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। চিনি নিয়ে কালোবাজারি ঠেকাতে এবার স্টক রাখার সীমা আরও কমিয়ে দেওয়া হল। নতুন নিয়মে ব্যবসায়ী ও ডিলাররা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের চাহিদার চিনি মজুত রাখতে পারবেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর হবে এই নতুন নিয়ম।
কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী, যে সব ব্যবসায়ী মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি কেনাবেচা করেন, তাঁরা নির্ধারিত সীমার বেশি চিনি মজুত করে রাখতে পারবেন না। এর আগে গত ১ অগeস্ট চিনি ডিলারদের জন্য ৩০ দিনের স্টক রাখার সীমা বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্র। এবার উৎসবের মরসুমে চাহিদা এবং দামবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে সেই সীমা কমিয়ে ১৫ দিন করা হল। ফলে আগের তুলনায় অর্ধেক স্টক রাখার অনুমতি দেওয়া হল।
উৎসবের মরসুমে চিনি মজুত করে কৃত্রিম ভাবে বাজারে সঙ্কট তৈরি করা এবং দাম বাড়ানো ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে সব পাইকারি ব্যবসায়ী বা ডিলার মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি কেনাবেচা করেন, তাঁরা ১৫ দিনের প্রয়োজনের বেশি চিনি নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন না।
৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কড়া নিয়ম
১ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হবে এই নিয়ম। চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এই নিয়মের আওতায় পড়বে কনফেকশনারি শিল্প, নরম পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থা, ফুড প্রসেসিং শিল্প এবং মিষ্টি বিক্রেতারাও।
কিন্তু কেন বাড়ছে চিনির দাম? এই প্রতিবেদনটি ক্লিক করে পড়ুন Ethanol Petrol এর চক্করে দাম বাড়ছে চিনির? এবার সরকারের প্ল্যানটা কী
কীভাবে নজরদারি করবে কেন্দ্র?
চিনির স্টক রাখার সীমা কমানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের উপর নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে। কোন ব্যবসায়ী কতটা চিনি মজুত করতে পারবেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গত এক বছরের গড় মাসিক চিনির কেনাবেচাকে মাপকাঠি করা হবে। এছাড়াও চিনিকল থেকে বড় ক্রেতাদের কাছে সরাসরি অথবা ডিলারের মাধ্যমে কতটা চিনি বিক্রি হচ্ছে, তার উপরেও নজর রাখবে সরকার।
ব্যবসায়ীদের GST রিটার্ন এবং চিনির HSN কোডের ভিত্তিতে বিক্রি ও লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হবে। কাগজে-কলমে যতটা চিনি কেনা হচ্ছে, বাস্তবে তার সঙ্গে মিল রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
উৎসবের আগে চিনির দামবৃদ্ধি
উৎসবের মরসুমের আগে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অগাস্ট থেকে নভেম্বরে দেশে চিনির চাহিদা বাড়ে। তার উপর সাম্প্রতিক সময়ে চিনির দামও বেড়েছে। মাত্র এক মাসের মধ্যে খুচরো বাজারে চিনির দামবৃদ্ধি প্রায় ১৩-১৪ শতাংশ। ফলে উৎসবের মরসুমে যাতে মজুতদারি করে কৃত্রিমভাবে চিনির দাম আরও বাড়ানো না যায়, সেই লক্ষ্যেই স্টক সীমা কমানোর সিদ্ধান্ত।
সরকারের মূল লক্ষ্য তিনটি। চিনির মজুতদারি বন্ধ, বাজারে চিনির জোগান বাড়ানো এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে এই নির্দেশের আওতার বাইরে থাকবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থাগুলি।