
রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ পাওয়া নিয়ে কড়া অবস্থান সুপ্রিম কোর্টের। নতুন সরকার মহার্ঘ ভাতা দেওয়া নিয়ে কী ভাবছে, কী পরিকল্পনা করছে, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
বুধবার ডিএ মামলা ওঠে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি পি কে মিশ্র-এর বেঞ্চে। সেখানে বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, টাকা মেটানোর প্রক্রিয়া কতদূর এগোল, সরকারের সদিচ্ছা কতটা- ইত্যাদি জানাতে হবে তাদের। তারপরই কোর্ট সিদ্ধান্ত নেবে। আপাতত সেই মামলা স্থগিত করা হয়েছে। জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই মামলা উঠবে।
এদিনের শুনানিতে সরকারি কর্মীদের জন্য ভালো খবর জানান কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আশা করা হচ্ছে, ডিএ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
কর্মচারী সংগঠনের তরফে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যও এদিন মামলা স্থগিতের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি জানান, মামলা জুলাই মাস পর্যন্ত স্থগিত করা হোক। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এই বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হতে পারে। তারপরই আদালত যেন সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রসঙ্গত, আগামী ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের বৈঠকের দিন স্থির হয়েছে। সেদিন তাঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন দ্য কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ (INTUC), ইউনিটি ফোরাম (অরাজনৈতিক), সরকারি কর্মচারি পরিষদের প্রতিনিধিরা। প্রায় ১২ জন সদস্য থাকবেন এই প্রতিনিধি দলে।
সেদিনই সমাধান সূত্র বেরোতে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস থাকার সময়ই সরকারি কর্মচারীদের পুরনো বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে অবিলম্বে- এই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেজন্য একটি কমিটিও গড়ে দিয়েছিল।কিন্তু আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ফেব্রুয়ারিতে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।