
এক বছরের জন্য সোনা কিনবেন না। এমনই আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর এই আবেদন ঘিরে দেশজুড়ে চর্চা তুঙ্গে। এহেন আবহেই সোনা নিয়ে বড় পরামর্শ দিলেন টাটা গোষ্ঠীর সংস্থা Titan Company-এর সিএফও অশোক সোনথালিয়া। তাঁর মতে, মন্দির, ব্যাঙ্ক লকার এবং সাধারণ মানুষের ঘরে থাকা বিপুল পরিমাণ সোনার ‘রোটেশন’ বা পুনর্ব্যবহার শুরু করলে সোনার আমদানি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে অন্তত এক বছরের জন্য বিয়ে বা অন্য অনুষ্ঠানে নতুন সোনা না কেনার আবেদন জানিয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার উপর বাড়তে থাকা চাপের কথা উল্লেখ করেই এই আবেদন করেন তিনি। এর পর থেকেই দেশের গয়না শিল্পে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে শেয়ার বাজারে ধাক্কা খেয়েছে গয়না শিল্পের একাধিক সংস্থা। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে টাইটনের শেয়ার। গত দু’দিন ধরে সংস্থার শেয়ারে বড় পতন দেখা গিয়েছে। মঙ্গলবারও লাল চিহ্নেই লেনদেন শেষ করে টাইটন। প্রায় ৩.৫ শতাংশ পড়ে শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ৪০৫৮.৪০ টাকায়। সংস্থার বাজারমূল্যও কমে প্রায় ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতেই বিজনেস টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টাইটনের সিএফও অশোক সোনথালিয়া বলেন, সরকারের মূল উদ্বেগ সোনার আমদানি ঘিরেই। তাঁর কথায়, “ভারতের ঘরে, মন্দিরে এবং ব্যাঙ্ক লকারে বিপুল পরিমাণ সোনা রয়েছে। সেই সোনাকে যদি সঠিক ভাবে বাজারে ফিরিয়ে আনা যায়, তা হলে দীর্ঘমেয়াদে আমদানি অনেকটাই কমানো সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, টাইটন এবং Tanishq ইতিমধ্যেই এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে পুরনো সোনা বদলের ব্যবস্থা চালু রেখেছে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেও মত তাঁর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোনা আমদানিকারী দেশ। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আসে। এই দুই ক্ষেত্রেই বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলার খরচ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এবং একই সময়ে সোনার আমদানি বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ আরও বৃদ্ধি পায়।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দেশবাসীকে শুধু সোনা কেনা কমানোর কথাই বলেননি, পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়, ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর উপরও জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীের এই মন্তব্যে গয়না শিল্প এবং কর্মসংস্থানের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও টাইটনের সিএফও জানিয়েছেন, পরিস্থিতির প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিন পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।