Advertisement

Paytm, PhonePe, GPay আর ফ্রি নয়? UPI Payment Charges নিয়ে সবটা বলল সরকার

ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে UPI আর Rupay ডেবিট কার্ডের উপর চার্জ ফ্রি করেছিল মোদী সরকার। সুফলও মেলে হাতেনাতে।

ইউপিআই চার্জ নিয়ে যা বলল কেন্দ্র।ইউপিআই চার্জ নিয়ে যা বলল কেন্দ্র।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 09 Aug 2026,
  • अपडेटेड 5:48 PM IST
  • ইউপিআই লেনদেনে চার্জ নিয়ে জল্পনা।
  • কেন্দ্র জানাল কোনও চার্জ লাগবে না।

এবার থেকে ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই (UPI) লেনদেন করলেই চার্জ দিতে হবে? সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের একটি এক্স পোস্ট ঘিরে এমন জল্পনা। তাঁর দাবি, সরকার চুপিসারে ইউপিআইয়ের ওপর মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) চাপানোর তোড়জোড় করছে। আর সেই বাড়তি খরচের বোঝা চাপবে আমজনতার পকেটেই। পাল্টা সুর চড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। কংগ্রেস নেতার অভিযোগ খারিজ করে তাঁর বক্তব্য, বিষয়টির অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। যদি কখনও এই মাশুল চালু হলেো গ্রাহকের ওপর নয়, বসবে ব্যবসায়ীদের পর। ব্যাঙ্ক এবং ফিনটেক সংস্থাগুলি যাতে সুরক্ষাব্যবস্থা ও নতুন প্রযুক্তিতে আরও বিনিয়োগ করতে পারে, সেই পথ সুগম করতেই এই উদ্যোগ।

বিতর্কটি বেশ জটিল। আজ রাস্তার ফুচকার দোকান থেকে শুরু করে বাসের টিকিট, সব ক্ষেত্রেই কিউআর কোড (QR Code) ব্যবহার করে টাকা মেটানো হয়। এই ব্যবস্থা ভারতে লেনদেনের সংজ্ঞাটাই বদলে দিয়েছে। তাহলে হঠাৎ কী হল?

কী বদলাচ্ছে আইনে?

গত ৬ অগাস্ট লোকসভায় পাস হয়েছে ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার ল'জ সংশোধনী বিল ২০২৬ (Taxation and other laws (amendment bill 2026)। এই বিলে পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস আইন ২০০৭-এর ১০এ ধারায় কিছু রদবদল আনা হয়েছে। এত দিন আয়কর আইনের আওতায় ইউপিআই এবং রুপে (RuPay) ডেবিট কার্ডের মতো মাধ্যমে লেনদেন সম্পূর্ণ জ়িরো চার্জ বা ফ্রি ছিল। নতুন বিলে সরকার সেই নিখরচায় পরিষেবার আইনি বাধ্যবাধকতা কিছুটা শিথিল করছে। সোজা কথায়, ভবিষ্যতে কোন ধরনের ডিজিটাল লেনদেনে মাশুল বসবে আর কোনটিতে বসবে না, তা ঠিক করতে পারবে সরকার। 

বলে রাখি, বিলে সরাসরি ইউপিআইয়ের ওপর কোনও মাশুল চাপানোর কথা ঘোষণা করা হয়নি বা ২,০০০ টাকার কোনও সীমার উল্লেখও নেই। অর্থাৎ আজই ৫০০ টাকা ইউপিআই করলে অতিরিক্ত চার্জ লাগবে না। 

২০০০ টাকার প্রসঙ্গ এল কোথা থেকে?

আসলে এটি একটি প্রস্তাবিত মডেল। যা নিয়ে বর্তমানে অর্থ মন্ত্রক ও শিল্পমহলের মধ্যে দরকষাকষি চলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স খবর অনুযায়ী, ২,০০০ টাকার ওপরের লেনদেনে ০.৩% থেকে ০.৫% পর্যন্ত এমডিআর বসানোর একটি খসড়া আলোচনায় এসেছে। তবে তা চালু হতে পারে খালি বড় ব্যবসায়ীদের জন্য। যাঁদের বার্ষিক লেনদেন দেড় কোটি টাকার বেশি।

Advertisement

পরিসংখ্যান বলছে, ২,০০০ টাকার ওপরে ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যা মোট লেনদেনের মাত্র ৫ শতাংশ। অথচ মূল্যের দিক থেকে তা সামগ্রিক ইউপিআই লেনদেনের প্রায় ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ  পাড়ার মোড়ের দোকানদারের ৫০ বা ১০০ টাকার কিউআর পেমেন্টে এই মাশুলের কোপ পড়ার কথা নয়। লক্ষ্য মূলত কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চালানো বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি।

এমডিআর (MDR) কী?

সহজ কথায়, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডে কেনাকাটা করার সময় দোকানদার পুরো টাকা পান না। পেমেন্ট প্রসেস করার জন্য ব্যাঙ্ক বা সার্ভিস প্রোভাইডারকে একটি নির্দিষ্ট ফি বা চার্জ দিতে হয়। এটাই হল মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR)।

ক্যাশলেস অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ইউপিআই এবং রুপে ডেবিট কার্ডে এমডিআর সম্পূর্ণ ফ্রি করেছিল মোদী সরকার। তার সুফলও মেলে হাতেনাতে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই UPI-এর মাধ্যমে রেকর্ড ২,৩৬৬ কোটি বার লেনদেন হয়েছিল। মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ২৯.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা!

কিন্তু বিনামূল্যে এই বিশাল পরিকাঠামো টিকিয়ে রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। লেনদেনের চাপ সামলাতে বিশাল সার্ভার, সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির উন্নতির জন্য প্রয়োজন বিপুল টাকা। গ্রাহকের জন্য ইউপিআই নিখরচায় হলেও গোটা ব্যবস্থায় ব্যয়বহুল। 

বিতর্ক কোথায়?

বিরোধীদের প্রশ্ন, শেষপর্যন্ত বড় ব্যবসায়ীদের ওপরেও মাশুল চাপানো হলে তাঁরা সেই বাড়তি খরচের বোঝা পরোক্ষভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে আমজনতার ওপর চাপাবে না?

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রার মতে, এই পরিকাঠামো চালানোর খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করবে, সরকার, ব্যবসায়ী নাকি অন্য কেউ? সেটা এখনই বলে দেওয়া সম্ভব নয়।

আমেরিকাকে সুবিধে?

একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিবন্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই সংস্থা ভিসা (Visa) বা মাস্টারকার্ডের (Mastercard) মতো সংস্থাকে ভারতে আবার সুবিধা পাইয়ে দিতেই কি এই চাপ? কারণ বিনামূল্যে ইউপিআই আসার পর থেকে ভারতে কার্ড পেমেন্টের বাজার ধাক্কা খেয়েছে।

যদিও এই যুক্তি পুরোপুরি মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। ইউপিআই টিকিয়ে রাখতে আয়ের মডেল নিয়ে আলোচনা আজকের নয়। ২০২২ সালেই আরবিআই এনিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব এনেছিল। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে অর্থ বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিও স্পষ্ট জানিয়েছে, সরকার যে ভর্তুকি দিচ্ছে, তা দিয়ে এই বিশাল নেটওয়ার্কের ব্যয়ভার মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

অর্থমন্ত্রক কী বলল?

কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট জানান হয়েছে, UPI-এর মাধ্যমে লেনদেন করার জন্য সাধারণ ব্যবহারকারীদের এক পয়সাও অতিরিক্ত দিতে হবে না। ভবিষ্যতে যদি এমডিআর চালুও হয়, তা প্রযোজ্য হবে অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক বাণিজ্যিক লেনদেনের ওপর। সহজ কথায়, আপনার বন্ধুকে ইউপিআই দিয়ে টাকা পাঠালে বা ১০০ টাকা আইসক্রিম কিনলে কোনও চার্জ লাগবে না। 

মাশুল বসলে কত হবে?

কেন্দ্রের ব্যাখ্যা, এমডিআর চালু হলে তা একটি নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার ওপরের বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সেই মাশুলের পরিমাণও হবে অত্যন্ত নগণ্য। যা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের ওপর চালু থাকা এমডিআরের তুলনায় অনেক কম। অর্থাৎ সব ইউপিআই লেনদেনে একই হারে মাশুল চাপবে না।

সরকার আরও জানিয়েছে, দেশে ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যা যে হারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তা সামলাতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা, অনলাইন জালিয়াতি রোখা এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর ধারাবাহিক আধুনিকীকরণের জন্য বিপুল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী, RBI গভর্নর কী বলছেন?

কংগ্রেসের তোপের জবাবে আগেই সুর চড়িয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ছিল,'এমডিআর চালু হলে শুধুই ব্যবসায়ীদের ওপর বসবে, গ্রাহকদের জন্য নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, এনপিসিআইয়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি এখনও এমডিআর নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি'।

Advertisement

একই সুর শোনা গিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রার গলাতেও। তিনি সাফ জানান, 'ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর বসানোর বিষয়টি নিয়ে এখনই তড়িঘড়ি মন্তব্য করা ঠিক নয়। পুরো ব্যবস্থাটি এখনও আলোচনার স্তরে'।

সমাধান কী?

১. ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার: রাস্তা বা রেলের মতো UPI-কেও যদি সম্পূর্ণ জনকল্যাণমূলক ধরে নিয়ে সরকারই সব খরচ বহন করে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য তা চিরকাল ফ্রি থাকবে। কিন্তু তাতে সরকারের কোষাগারে চাপ বাড়বে। যা আদতে করদাতাদেরই টাকা।

২. বাছাই করা এমডিআর: ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহককে সম্পূর্ণ ছাড় দিয়ে কেবল বড় কর্পোরেট ও বড় টাকার লেনদেনে কিছুটা এমডিআর চালু করা।

UPI বিপ্লবে বেগ? 

আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে ভারসাম্য বজায় রাখার মধ্যে। একদিকে ইউপিআই পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে অর্থের দরকার। অন্যদিকে মাশুল দেওয়ার ভয়ে মানুষ ফিরে যেতে পারে নগদ লেনদেনে। তখন ডিজিটাল লেনদেনের অভ্যাসটাই বদলে যেতে পারে। ভারত যে ডিজিটাল বিপ্লব বিশ্বকে দেখিয়েছে, তা চালিয়ে যেতে টাকা আসবে কোত্থেকে? এটা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

TAGS:
Read more!
Advertisement
Advertisement