Advertisement

UPI লেনদেনে কি খেলা ঘোরার ইঙ্গিত? MDR চালুর আগে বড় খবর দিল কেন্দ্রের সংস্থা

১৫ অক্টোবর থেকে ২০০০ টাকার বেশি কিছু নির্দিষ্ট ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ এমডিআর বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট প্রযোজ্য হবে। এই টাকা সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হবে না।

ইউপিআই পেমেন্ট সামান্য কমল।ইউপিআই পেমেন্ট সামান্য কমল।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 02 Oct 2026,
  • अपडेटेड 9:02 PM IST
  • ২০০০ টাকার বেশি কিছু নির্দিষ্ট ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ এমডিআর।
  • বন্ধুকে টাকা পাঠানোয় কোনও চার্জ নেই।

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ইউপিআই লেনদেনে লাগবে চার্জ। যদিও সরাসরি সাধারণ মানুষকে সেই চার্জ দিতে হবে না। তবে তার আগেই সেপ্টেম্বর মাসে ইউপিআই মাধ্যমে হওয়া লেনদেনে সামান্য পতন দেখা গেল। তাহলে কি ইউপিআই ছেড়ে আবার নগদে ফিরছেন মানুষ? বিকল্প ডেবিট কার্ডের দিকে ঝুঁকছেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক পরিসংখ্যান।  

সেপ্টেম্বরে ইউপিআইতে প্রায় ২৪০৭ কোটি লেনদেন হয়েছে। অগাস্টে এই সংখ্যা ছিল ২৪৫১ কোটি। অর্থাৎ এক মাসে লেনদেনের সংখ্যা কমেছে প্রায় ১.৮ শতাংশ। শুধু লেনদেনের সংখ্যাই নয়, ইউপিআই-এর মাধ্যমে লেনদেন হওয়া মোট টাকার পরিমাণও কমেছে। ইউপিআই চালানো সংস্থা ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার পরিসংখ্যান বলছে, অগাস্টে ইউপিআই মাধ্যমে প্রায় ২৯.৮২ লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে তা কমে হয়েছে ২৯.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ লেনদেনের অঙ্ক কমেছে প্রায় ১.৫ শতাংশ।

ইউপিআই ছেড়ে নগদে?

এখন প্রশ্ন, ১৫ অক্টোবর থেকে চালু হতে চলা এমডিআরের কারণেই কি ইউপিআই লেনদেনে এই পতন? এখনই সরাসরি এমনটা বলা যাচ্ছে না। কারণ অগাস্ট মাসে ৩১ দিন থাকলেও সেপ্টেম্বরে ছিল ৩০ দিন। ফলে একটি দিন কম থাকায় সেপ্টেম্বরে মোট লেনদেনের সংখ্যায় কিছুটা প্রভাব পড়তেই পারে। 

তবে পুরো বছরের পরিসংখ্যান দেখলে ইউপিআইয়ের ব্যবহার যে বেড়েছে, তা স্পষ্ট। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। লেনদেনে ব্যবহৃত মোট টাকার পরিমাণও বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এরই মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান দিই, সেপ্টেম্বরে প্রথমবার দিনে গড়ে ৮০ কোটিরও বেশি ইউপিআই লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০.২ কোটি বার ইউপিআই মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে।

কত টাকা চার্জ?

এবার আসা যাক ১৫ অক্টোবর থেকে হতে চলা পরিবর্তনে। ওই দিন থেকে ২০০০ টাকার বেশি কিছু নির্দিষ্ট ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ এমডিআর বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট প্রযোজ্য হবে। এই টাকা সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হবে না। দিতে হবে ব্যবসায়ী বা দোকানদারকে। ধরা যাক, কোনও দোকানে আপনি ১০,০০০ টাকা ইউপিআই পেমেন্ট করলেন। ০.৪ শতাংশ হিসাবে ৪০ টাকা এমডিআর হবে। এই টাকা দিতে হবে ওই ব্যবসায়ীকে।

Advertisement

তবে সব ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে এই চার্জ প্রযোজ্য হবে না। ২০০০ টাকা পর্যন্ত কোনও দোকানদারকে করা পেমেন্টে এমডিআর লাগবে না। এক জন ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য ব্যক্তিকে পাঠানো টাকার উপরও কোনও এমডিআর থাকবে না, সে টাকার পরিমাণ যতই হোক না কেন। 

সরকারের দাবি, প্রায় ৯৬ শতাংশ দোকানদার সংক্রান্ত ইউপিআই লেনদেন এই নতুন চার্জের আওতার বাইরে থাকবে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্যও আলাদা ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ছোটখাটো ইউপিআই পেমেন্টে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়ার কথা নয়।

চার্জ চালু হচ্ছে কেন?

সরকারের বক্তব্য, ইউপিআই ব্যবস্থা চালানোর জন্য ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট অ্যাপ এবং অন্যান্য সংস্থার কিছু খরচ হয়। এমডিআর থেকে পাওয়া অর্থ সেই পেমেন্ট পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই টাকা সরকার নিজে নেবে না।

ভবিষ্যতে সেই খরচ কি ঘুরপথে গিয়ে গ্রাহকের উপর পড়তে পারে?

সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যবসায়ীরা সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে এই চার্জ আদায় করতে পারবেন না। কিন্তু ব্যবসায়ী সংগঠন এবং ইউপিআই ব্যবহারকারীদের একাংশের আশঙ্কা, কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে বা অন্য কোনও উপায়ে এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা গ্রাহকের উপর চাপানোর চেষ্টা করতে পারেন। তবে বাস্তবে এমনটা হয় কিনা, তা জানা যাবে ১৫ অক্টোবর এমডিআর চালু হওয়ার পরেই।
 

TAGS:
Read more!
Advertisement
Advertisement