
সোনার দাম লাফিয়ে কমছে। যে হারে বাড়ছিল, ঠিক সেই হারেই পতন শুরু হয়েছে। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে দেখা যাচ্ছে, তাতে ভয়ে বহু মানুষ পুরনো সোনার গয়না বিক্রি করতে শুরু করে দিয়েছেন। রেকর্ড জায়গায় পৌঁছে এবার হু হু করে পড়ছে সোনার দাম। ফলে ভারতীয় পরিবারগুলি তড়িঘড়ি পুরনো সোনার গয়না বিক্রি করতে শুরু করেছেন।
MCX-এ সোনার দাম গত শুক্রবার সকালে প্রতি ১০ গ্রামের ছিল ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৯৯ টাকা। দেখা যাচ্ছে, পুরনো সোনার গয়না ভাঙিয়ে নতুন গয়না তৈরির দিকে না ঝুঁকে, পুরনো সোনার গয়না বিক্রিই করতে শুরু করে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। ভয় একটাই, এই হারে যদি সোনার দাম পড়তে থাকে, তাহলে পুরনো সোনার দাম মিলবে না। ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
ইন্ডিয়ান বুলিয়ান অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে ভারতীয়রা প্রায় ৫০ টন পুরনো সোনা বিক্রি করে দিয়েছে। ঠিক একবছর আগের ওই একই সময়ের চেয়ে যা ৪৩ শতাংশ বেশি। সকলেই তড়িঘড়ি যতটা পারছেন লাভ তুলে নিতে চাইছেন।
কেন ভারতীয়রা পুরনো সোনার গয়না বেচে দিচ্ছেন তাড়াহুড়ো করে?
ET-র রিপোর্ট অনুযায়ী, সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতেই পুরনো গয়না বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে ভারতে। বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৪ লক্ষ টাকা ঘোরাফেরা করছে। তবে বাজারের একাংশের ধারণা, আগামী দিনে দাম কমে ১.২ লক্ষ টাকার কাছাকাছি নেমে আসতে পারে। সেই আশঙ্কায় অনেক পরিবার এখন পুরনো গয়না ধরে না রেখে বিক্রি করে নগদ অর্থ তুলে নিচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দামে চাপ দেখা যাচ্ছে। আজ অর্থাত্ সোমবার স্পট গোল্ডের দাম কিছুটা কমেছে। একদিকে আমেরিকা-ইরান উত্তেজনার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুদের হার বাড়লে সাধারণত সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়, কারণ সোনা থেকে নির্দিষ্ট কোনও সুদ বা আয় পাওয়া যায় না। ফলে অনেকেই সুদ-বহনকারী সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
পুরনো সোনা রিসাইক্লিংয়ে জোর
পুরনো গয়না বিক্রির এই প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে দেশের সংগঠিত গোল্ড রিসাইক্লিং শিল্প। লকারে পড়ে থাকা অলঙ্কার এখন পরিশোধনের মাধ্যমে খাঁটি সোনায় রূপান্তরিত হয়ে আবার গয়না তৈরির কাজে ব্যবহার হচ্ছে। মুথুট এক্সিম জানিয়েছে, তাদের ১০০-র বেশি গোল্ড পয়েন্টে পুরনো সোনা জমা দেওয়ার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সংস্থার সিইও কিয়ুর শাহ বলেছেন, এখন মানুষ স্বচ্ছ ও সংগঠিত ব্যবস্থার মাধ্যমে অলস পড়ে থাকা সোনা নগদে রূপান্তর করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ।
শিল্পমহলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১২৫ থেকে ১৫০ টন সোনা রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বাজারে ফিরেছিল। বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে এ বছর সেই পরিমাণ ২০০ থেকে ২৫০ টনে পৌঁছতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় পরিবারের কাছে প্রায় ৩০,০০০ টন সোনা রয়েছে। এই বিপুল সোনার একটি অংশ যদি রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বাজারে ফেরানো যায়, তাহলে আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং সাধারণ মানুষও অব্যবহৃত সম্পদ থেকে নগদ অর্থের সুবিধা পাবেন।
এখন কি সোনা বিক্রি করা উচিত?
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র দামের ওঠানামা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। যাঁদের পুরনো গয়না আর ব্যবহার হয় না, তাঁদের জন্য বর্তমান উচ্চ দাম বিক্রির ভালো সুযোগ হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা এখনও মূল্যস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাজারের অস্থিরতার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়।