
পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর (E20) সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো সওয়াল করল কেন্দ্রীয় সরকার। লোকসভায় সরকারের তরফে জানান হল, বর্তমানে দেশজুড়ে ২৩ কোটিরও বেশি গাড়ি চলছে ই২০ পেট্টোলে। এত বিপুল সংখ্যক গাড়ি চলা সত্ত্বেও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে ইঞ্জিনের বড়সড় কোনও ক্ষতি হয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি।
সরকারের আরও দাবি, ইথানল মেশানো না হলে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তাল পরিস্থিতিতে দেশে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১২৫ টাকায় পৌঁছে যেতে পারত।
গাড়ি বিকলের প্রমাণ নেই
সংসদে পেশ করা একটি লিখিত বিবৃতিতে সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি জানান, দেশে ২০ কোটিরও বেশি দু'চাকা গাড়ি এবং ৩ কোটিরও বেশি পেট্রোল চালিত গাড়ি গত আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে E15+ এবং E20 পেট্রোলে চলছে। এই সময়ের মধ্যে জ্বালানির কারণে ইঞ্জিনের ক্ষতি বা গাড়ি বিকল হওয়ার যথোপযুক্ত প্রমাণ মেলেনি।
সরকার জানিয়েছে, বিভিন্ন গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থার সার্ভিস সেন্টার থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করেও দেখা গিয়েছে, E20 পেট্রলের কারণে গাড়ি খারাপ হওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। একটি শীর্ষ অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থার তথ্যের উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, ২০২৬ আর্থিক বছরে ওই সংস্থাটি প্রায় ২.৮৪ কোটি গাড়ির সার্ভিসিং করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১.৫ কোটি ছিল পুরনো মডেলের গাড়ি। কিন্তু ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের ব্যবহারে কোনও ইঞ্জিনের ক্ষতি, ফুয়েল ট্যাঙ্কে জং ধরা বা গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি।
বেঁচেছে বৈদেশিক মুদ্রা
পেট্রলে ইথানল মেশানোর ফলে দেশীয় অর্থনীতিতে বিরাট সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। গড়করি জানান, ইথানল মেশানোর কারণে প্রায় ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৩১৭ লক্ষ টন অপরিশোধিত তেল কম আমদানি করা হয়েছে। প্রায় ৯৫২ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গমন কমানো সম্ভব হয়েছে।
লাভবান কৃষক
এতে দেশের কৃষকরাও ব্যাপকভাবে উপকৃত। তাঁদের পকেটে অতিরিক্ত ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা পৌঁছেছে।