
চোখে না দেখেই, শুধু স্পর্শের মাধ্যমেই সঙ্গীকে চিনে নেয়, এমন বিস্ময়কর প্রজনন কৌশল রয়েছে অক্টোপাসের। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই প্রাণীর প্রজননের জন্য দৃষ্টিশক্তির কোনও প্রয়োজনই পড়ে না; বরং স্পর্শ ও রাসায়নিক সংবেদনই তাদের প্রধান ভরসা।
বিজ্ঞান পত্রিকা সায়েন্স-এ প্রকাশিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, অন্ধকার পরিবেশে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী অক্টোপাসকে আলাদা করে রাখা হলেও, পুরুষটি ছোট একটি ছিদ্র দিয়ে নিজের শুঁড় বাড়িয়ে স্ত্রীটিকে খুঁজে নেয়। একে অপরকে না দেখেই তারা সঙ্গমে লিপ্ত হয়, যা প্রমাণ করে, দৃষ্টির বদলে স্পর্শ ও রাসায়নিক সংকেতই এখানে মূল ভূমিকা নেয়।
গবেষণার প্রধান লেখক পাবলো ভিলার জানান, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে অক্টোপাসরা কেবল ‘কেমোসেনসেশন’ বা রাসায়নিক সংবেদনের মাধ্যমেই সঙ্গীকে চিনতে এবং প্রজনন করতে সক্ষম।
অক্টোপাসের শরীরের গঠনও এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। তাদের আটটি শুঁড়ের প্রতিটি সাকশন কাপে প্রায় ১০ হাজার সংবেদী কোষ থাকে। আরও অবাক করা বিষয়, তাদের প্রায় ৫০ কোটি নিউরনের বড় অংশ মস্তিষ্কে না থেকে ছড়িয়ে থাকে এই শুঁড়গুলিতেই। ফলে প্রতিটি শুঁড় যেন নিজে থেকেই পরিবেশ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
পুরুষ অক্টোপাসের একটি বিশেষ শুঁড় থাকে, যার নাম ‘হেক্টোকোটাইলাস’। সঙ্গমের সময় এই শুঁড় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে স্ত্রী অক্টোপাসের শরীরে শুক্রাণু পৌঁছে দেয়। শুধু তাই নয়, এই শুঁড় স্ত্রীটির নির্গত রাসায়নিক সংকেতও শনাক্ত করতে পারে, যা আগে অজানা ছিল।
গবেষণার সময় বিজ্ঞানীরা আরও একটি চমকপ্রদ বিষয় লক্ষ্য করেন। যখন স্ত্রী অক্টোপাসের জায়গায় প্রোজেস্টেরন হরমোন মাখানো একটি প্লাস্টিকের নল রাখা হয়, তখনও পুরুষ অক্টোপাস একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং সঙ্গমের চেষ্টা করে। অথচ হরমোন না থাকলে সে কোনও আগ্রহই দেখায় না।
সবচেয়ে বিস্ময়কর আবিষ্কার হয় তখন, যখন ওই বিশেষ শুঁড়টি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরও সেটি প্রোজেস্টেরনের সংস্পর্শে নড়াচড়া করতে থাকে। এতে প্রমাণ হয়, অক্টোপাসের শুঁড় নিজেই সংকেত বুঝতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম, মস্তিষ্কের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়।
গবেষকরা CRT1 নামে একটি বিশেষ রিসেপ্টরও শনাক্ত করেছেন, যা প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রতি সাড়া দেয়। এই রিসেপ্টরের সামান্য পরিবর্তন বিভিন্ন প্রজাতির অক্টোপাসকে নিজেদের উপযুক্ত সঙ্গী চিনতে সাহায্য করে।