Advertisement

শিক্ষা-দীক্ষা

Gen Z Workplace Culture Revolution 2026: কথায় কথায় চাকরিতে ইস্তফা, কোনও অনুশোচনা নেই; Gen-G কেমন জব চাইছে?

Aajtak Bangla
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 06 Apr 2026,
  • Updated 7:43 PM IST
  • 1/7

ডেস্কে কাজের পাহাড়, বসের রক্তচক্ষু আর মাস শেষে মোটা মাইনের হাতছানি, এক সময় মধ্যবিত্ত বাঙালির কেরিয়ার বলতে এটুকুই ছিল ধ্রুবসত্য। সরকারি বা বেসরকারি, একবার চাকরিতে ঢুকলে সেখান থেকেই অবসর নেওয়ার চল ছিল সেকালে। কিন্তু সময় বদলেছে। বর্তমানের 'জেন জি' (Gen Z) প্রজন্মের কাছে চাকরি মানে কেবল ঘড়ি ধরে ডিউটি আর হাড়ভাঙা খাটুনি নয়। তাদের জীবনদর্শন সম্পূর্ণ আলাদা।

  • 2/7

কথা নেই বার্তা নেই, সামান্য মনোমালিন্য হলেই পকেটে রাখা ইস্তফাপত্র ধরিয়ে দিতে দু’বার ভাবছেন না আজকের তরুণ-তরুণীরা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, চাকরি ছাড়ার পর তাঁদের চোখেমুখে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ বা দুশ্চিন্তার রেখা দেখা যাচ্ছে না। কোনও বড় সংস্থায় কাজ করার চেয়েও তাঁদের কাছে বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে আত্মসম্মান। তথাকথিত ‘ম্যানেজার কালচার’ বা করপোরেট শৃঙ্খলকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে এই নতুন রক্ত।

  • 3/7

সমাজতত্ত্ববিদদের মতে, এই প্রজন্মের কাছে কাজের চেয়েও বেশি দামি হলো ‘মেন্টাল পিস’ বা মানসিক শান্তি। বসের খবরদারি বা অতিরিক্ত কাজের চাপে ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দিতে তারা নারাজ। অফিসের চার দেওয়ালে বন্দি না থেকে তাঁরা খুঁজছেন সৃজনশীল স্বাধীনতা। তাই তো সামান্যতম অসম্মান বা একঘেয়েমি এলেই হাসিমুখে পদত্যাগ করছেন তাঁরা। চাকরির অনিশ্চয়তা তাঁদের কাছে এখন আর ভয়ের কারণ নয়।

  • 4/7

আসলে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’-এ বিশ্বাসী। তারা মনে করে, জীবনটা কেবল কাজ করার জন্য নয়, উপভোগ করার জন্য। তাই চড়া বেতনের বিনিময়ে ২৪ ঘণ্টা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকাকে তারা একপ্রকার দাসত্ব বলেই মনে করে। তাদের এই ‘অ্যান্টি-বস’ মানসিকতা এখন বড় বড় করপোরেট সংস্থাগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যোগ্য কর্মী ধরে রাখা এখন সংস্থাগুলোর কাছে মস্ত চ্যালেঞ্জ।

  • 5/7

অনেকের মতে, এই প্রজন্ম অনেক বেশি স্বনির্ভর হতে চায়। ফ্রিল্যান্সিং, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন বা স্টার্ট-আপের দুনিয়ায় নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ এই তরুণ তুর্কিরা। গতে বাঁধা ৯টা-৫টার ছক থেকে বেরিয়ে তারা নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে চায়। তাদের কাছে প্যাশন বা শখ পূরণ করাটাই আসল লক্ষ্য, স্রেফ ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বাড়ানো নয়।

  • 6/7

তবে এই বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে বিতর্কও কম নেই। প্রবীণদের একাংশ মনে করেন, এতে পেশাদারিত্বের অভাব প্রকট হচ্ছে। ধৈর্য এবং সহনশীলতা কমে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের পথ রুদ্ধ হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের। যদিও জেন-জি প্রজন্মের সাফ কথা, যেখানে কাজের পরিবেশ বিষাক্ত, সেখানে এক মুহূর্তও নষ্ট করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

  • 7/7

পরিশেষে বলা যায়, কর্মসংস্কৃতির এই আমূল বদল আগামীর বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করবে। বস বা ম্যানেজারদের এখন হুকুম দেওয়ার বদলে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হচ্ছে। জেন-জি’র এই ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব আসলে প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক নীরব বিদ্রোহ। গদি ছাড়ার এই অকুতোভয় মানসিকতা আদতে নতুন যুগের কর্মবিপ্লবেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Advertisement
Advertisement