Advertisement

শিক্ষা-দীক্ষা

Ice Making Business: মাসে দেড় লাখ টাকা প্রফিট, প্রথম দিন থেকেই চলতে শুরু করবে এই ব্যবসা, চাকরি ভুলে যান

Aajtak Bangla
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 17 Mar 2026,
  • Updated 2:01 AM IST
  • 1/8

বরফ তৈরির ব্যবসা শুরু করার প্রথম ধাপ হলো একটি সঠিক জায়গা নির্বাচন। যেহেতু এটি একটি উৎপাদনমূলক কাজ, তাই মোটামুটি এক হাজার থেকে দেড় হাজার স্কোয়ার ফিট জায়গার প্রয়োজন হবে। খেয়াল রাখতে হবে, সেই এলাকায় যেন জলের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা থাকে। বাণিজ্যিক এলাকায় এই কারখানা তৈরি করতে পারলে পরিবহণ খরচ অনেকটাই বাঁচানো সম্ভব। তবে বসতি এলাকা থেকে কিছুটা দূরে কলকারখানার জোনে এই সেটআপ করা আইনি দিক থেকেও সুবিধাজনক।

  • 2/8

এই ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি হলো আইস মেকিং মেশিন। আপনি ব্লু আইস, কিউব আইস কিংবা ফ্লেক আইস— কোন ধরনের বরফ তৈরি করতে চান, তার ওপর নির্ভর করবে যন্ত্রের ধরণ। বাজারে বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির অটোমেটিক মেশিন পাওয়া যাচ্ছে, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে দ্রুত বরফ তৈরি করতে সক্ষম। একটি ছোট আকারের প্ল্যান্ট বসাতে মোটামুটি ৫ থেকে ৮ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। তবে ব্যবসার আকার বাড়লে লগ্নির পরিমাণ ১৫-২০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

  • 3/8

বরফ তৈরির জন্য ব্যবহৃত জল অবশ্যই পরিষ্কার হওয়া জরুরি। যদি খাওয়ার বরফ তৈরি করেন, তবে সেখানে আরও বেশি সাবধানতা প্রয়োজন। মাছ বা সবজি সংরক্ষণের জন্য বরফ হলে সেখানে পরিস্রুত জল ব্যবহার করলেও চলে। এই ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, এমএসএমই (MSME) রেজিস্ট্রেশন এবং খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের (FSSAI) ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিদ্যুৎ দপ্তরের বাণিজ্যিক সংযোগ নেওয়াও অন্যতম প্রধান শর্ত। আইনি জটিলতা এড়াতে এই নথিগুলো আগেভাগে গুছিয়ে রাখা জরুরি।

  • 4/8

ব্যবসার মূল খরচের একটি বড় অংশ যায় কাঁচামাল এবং বিদ্যুৎ বিলে। জল নিখরচায় পেলেও বড়সড় ইলেকট্রিক বিল সামলানোর মতো মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে। তবে সোলার প্যানেল ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব। এছাড়া শ্রমিক খরচ এবং পরিবহণের জন্য একটি ছোট পিকআপ ভ্যান বা ছোট হাতি গাড়ি থাকলে ব্যবসা অনেক বেশি গতি পায়। শুরুর দিকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে কাজ চালানো গেলেও নিজের যান থাকলে লাভের হার বাড়ে।

  • 5/8

মার্কেটিং বা বাজারজাতকরণ এই ব্যবসার সাফল্যের চাবিকাঠি। আপনার এলাকার মাছের আড়ত, মিষ্টির দোকান, বিয়ে বাড়ি বা বিভিন্ন উৎসবের ক্যাটারিং সার্ভিসগুলোর সঙ্গে আগেভাগেই যোগাযোগ করে রাখতে হবে। ছোট ছোট আইস কিউবের প্যাকেট বানিয়ে স্থানীয় রেস্তোরাঁ বা ফলের রসের দোকানগুলোতেও সরবরাহ করা যায়। বিশেষ করে গরমের চার-পাঁচ মাস চাহিদা এত বেশি থাকে যে, উৎপাদিত পণ্য মজুত করে রাখারও অবকাশ পাওয়া যায় না।

  • 6/8

লাভের খতিয়ান নিয়ে বলতে গেলে, এটি একটি উচ্চ মুনাফাসম্পন্ন ব্যবসা। এক টন বরফ তৈরি করতে যে খরচ হয়, বাজারে তা বিক্রি করে প্রায় দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব। বড় আইস প্ল্যান্ট থেকে দিনে কয়েক হাজার টাকা লাভ করা এখন জলভাত। যদি আপনি সঠিক মানের বরফ তৈরি করেন, তবে খদ্দের আপনার দরজায় নিজে থেকেই এসে হাজির হবে। অফ সিজনেও বিভিন্ন শিল্প সংস্থায় বরফের চাহিদা থাকে, তাই আয় পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার ভয় নেই।

  • 7/8

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। যেহেতু এটি মেশিন নির্ভর ব্যবসা, তাই যন্ত্রের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। একটু অসাবধানতায় বড়সড় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের সমস্যা মোকাবিলা করতে একটি শক্তিশালী জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখাও বুদ্ধিমানের কাজ। কাঁচামাল অর্থাৎ জলের গুণমান খারাপ হলে গ্রাহক হারানোর ভয় থাকে, তাই পরিচ্ছন্নতার প্রশ্নে কোনও আপস করা চলবে না।

  • 8/8

পুঁজির অভাবে বড় কারখানা করতে না পারলেও ছোট পরিসরে শুরু করা যেতে পারে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন স্বনির্ভর প্রকল্পের মাধ্যমে এখন খুব সহজে ব্যবসায়িক ঋণ পাওয়া যায়। পিএমইজিপি (PMEGP) প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণের ওপর ভর্তুকিও মেলে। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কাছে এই ব্যবসাটি এখন আক্ষরিক অর্থেই এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। অল্প সময়ে স্বাবলম্বী হওয়ার এমন সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভালো।

 

Advertisement
Advertisement