
এবার গেট পরীক্ষা দিতে পারবেন আয়ুষ চিকিৎসক পড়ুয়ারা। তার মাধ্যমে ভর্তি হতে পারবেন আইআইটি, আইআইএসসি ও এনআইটি-এর মতো প্রতিষ্ঠানে। এতদিন এই পরীক্ষা শুধু মডার্ন মেডিসিনের পড়ুয়ারাই দিতে পারতেন। তবে বাঙালি আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডা: সুমিত সুরের আবেদনের পর এই বৈষম্য দূর হল। এখন থেকে আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথির চিকিৎসার পড়ুয়ারাও গেট পরীক্ষা দিতে পারবেন।
কোথায় সমস্যা ছিল?
এতদিন মেডিক্যাল স্ট্রিমের মধ্যে এমবিবিএস, বিডিএস আর এমভিএস এবং বিভিএসসি (ভেটেরিনারি) চিকিৎসক পড়ুয়ারাই মেডিক্যাল গেট পরীক্ষা দিতে পারতেন। আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি বা আয়ুষের কোনও চিকিৎসক পড়ুয়া এটা দিতে পারতেন না। আর এই সমস্যারই সমাধান হল এবার। এবাপর থেকে আয়ুষ পড়ুয়ারাও গেট পরীক্ষা দিয়ে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে পারবেন।
কোন কোন সাবজেক্ট উচ্চশিক্ষা সম্ভব?
আয়ুষে পড়ার পর বায়োটেকনোলজি, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড টেকনোলজি, এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজির মতো বিষয়গুলি নিয়ে পড়া যাবে। তারপর এই সব পড়ুয়াদের সামনে বিরাট সুযোগ তৈরি হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডা: সুমিত সুর বলেন, 'গত ৫ তারিখ আমি বিষয়টা নিয়ে প্রতিবাদ করি। আমি দুটো জায়গায় প্রতিবাদ করি। একটা হচ্ছে নীতি আয়োগ। অন্যটা হল হচ্ছে উচ্চ শিক্ষা দফতর। তাদের সেন্ট্রাল পাবলিক গ্রিভ্যান্স রিড্রেস অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেমের (CPGRAMS) মাধ্যমে চিঠি লিখি। সিপিজিআরএমএস একটা পোর্টাল আছে, ওই পোর্টালের মাধ্যমে চিঠিটা লিখি।'
আর তাতেই কাজ হয় বলে জানালেন সুমিত। তারপর ৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে জানান হয়, আয়ুর্বেদ চিকিৎসক পড়ুয়ারাও গেট পরীক্ষা দিতে পারবে।
তিনি দাবি করেন, মেডিক্যাল সায়েন্সের কোর্স হল সাড়ে পাঁচ বছরের। কিন্তু কোনও পড়ুয়া ফোর্থ ইয়ারেই গেট পরীক্ষা দিতে পারবে। তাঁর রেজাল্টটা তিন বছর ভ্যালিড থাকবে। সে নিজের মেডিক্যাল ডিগ্রি শেষ করে এই কোর্সে ভর্তি হতে পারবে।
সুমিতের মতে, এটা একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে শুধু বাংলার আয়ুষ পড়ুয়ারা নন, সারা ভারতের শিক্ষার্থীরা লাভ পাবে। আর তাৎপর্যপূণভাবে আয়ুষ চিকিৎসক ও পড়ুয়াদের একটা বড় অংশই এই কথাটা মেনে নিয়েছে।