Advertisement

WB Gov Job Details: পশ্চিমবঙ্গে মার্চের মধ্যে ১ লাখ সরকারি চাকরি, কোথায় কত শূন্যপদ? বিস্তারিত

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় খবর। কর্মসংস্থান নিয়ে বিরাট দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পুরুলিয়ার মানবাজারে জল প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জনসমক্ষে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী ৩১ শে মার্চ,২০২৭ সালের মধ্যে রাজ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ নিয়োগ করা হবে।

 রাজ্যের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় খবর রাজ্যের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় খবর
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 18 Aug 2026,
  • अपडेटेड 11:43 AM IST


পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় খবর। কর্মসংস্থান নিয়ে বিরাট দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পুরুলিয়ার মানবাজারে জল প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জনসমক্ষে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী ৩১ শে মার্চ,২০২৭ সালের মধ্যে রাজ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ নিয়োগ করা হবে।

কী আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী?
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, 'এবার দেখবেন কীভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ হয়। কীভাবে স্কুল সার্ভিস কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে লিখিত পরীক্ষায় নিয়োগ করা হয়। ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে শিক্ষক, পুলিশ-সহ আরও সব মিলিয়ে মোট ১ লক্ষের কাছাকাছি নিয়োগ হবে। এই নিয়োগ হবে পুরোপুরি মেধা অনুযায়ী স্বচ্ছতা মেনে।' আগামী পরীক্ষাগুলিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে লেখা পরীক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে হলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কোথায় কত নিয়োগ?
রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে ২৫ হাজারেরও বেশি শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC)। নতুন বিজেপি সরকারের আমলে এটাই প্রথম বড় নিয়োগ হতে চলেছে। চলতি আর্থিক বছরে এক লক্ষ কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি রাজ্য সরকার দিয়েছে, সেই লক্ষ্য পূরণের পথে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।  WBPSC জানিয়েছে, রাজ্যের ৫৪টি সরকারি দফতরে গ্রুপ A, B ও C মিলিয়ে মোট ১৭,৭১৪টি শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে গ্রুপ A-তে রয়েছে ২,৪৯০টি পদ। এই তালিকায় বিচার বিভাগ, WBCS (Executive), অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস সার্ভিস এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে। গ্রুপ B-তে ২,৮৪৮টি এবং গ্রুপ C-তে ১২,৩৭৬টি শূন্যপদ রয়েছে। 


WBPSC সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই এই নিয়োগের জন্য স্ক্রিনিং, প্রিলিমিনারি এবং মেইন পরীক্ষার মতো বিভিন্ন ধাপে কাজ চলছে। প্রায় ১২.৬৫ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী এই পদগুলির জন্য আবেদন করেছেন। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সূচনা আগের সরকারের আমলেই হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন তা বিশেষ এগোয়নি। নতুন সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করবে। এর পাশাপাশি আরও ৮,০০৮টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য শীঘ্রই পদক্ষেপ করতে চলেছে WBPSC। এই পদগুলির জন্য খুব তাড়াতাড়ি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। 

Advertisement

PSC-এর মাধ্যমে কোন কোন নিয়োগ হবে?
রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে Municipal Service Commission এবং Co-operative Service Commission যে নিয়োগগুলি করে থাকে, সেগুলি এবার Public Service Commission বা PSC-এর মাধ্যমে করা হবে।

রাজ্য পুলিশে শূন্যপদ পূরণে বড় নিয়োগ
রাজ্য পুলিশে কর্মী ঘাটতি মেটাতে একের পর এক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার পথে রাজ্য সরকার। প্রথম দফায় ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া দুর্গাপুজোর আগেই শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর পরেই আরও ১৭,১৪৩টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (PRB) চেয়ারম্যান নীরজকুমার সিংহ নিজেই সেকথা জানিয়েছেন। PRB সূত্রে খবর, প্রথম দফার ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই এগিয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতার কারণে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন সেই বাধা কাটিয়ে ফের গতি পেয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখেই গোটা প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। প্রসঙ্গত, রাজ্য পুলিশে দীর্ঘদিন নতুন নিয়োগ না হওয়া এবং নিয়মিত অবসরের জেরে বাহিনীতে কর্মী ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরপর দুটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন। প্রথমে ১২ হাজার এবং পরবর্তী পর্যায়ে ১৭,১৪৩- অর্থাৎ মোট ২৯,১৪৩টি নিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্য পুলিশে ডিএসপি থেকে জুনিয়র কনস্টেবল পর্যন্ত অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩৪৪। এর মধ্যে শূন্যপদ ৪৩ হাজার ৭৩।  বিধানসভায় এই পরিসংখ্যান নিজেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শিক্ষক পদে কত নিয়োগ?
রাজ্যসভায় শিক্ষা মন্ত্রকের পেশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এ রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে মোট ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৬৫৫টি শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই স্কুলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ করা হবে বলে জানান হয়েছে। ইতিমধ্যেই, ৩৯ হাজার সহকারী শিক্ষক পদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজারের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৬ সালের বকেয়া ১,১৭৭টি নিয়োগের প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ করা হয়েছে। এছাড়াও, ৩০৮ জন স্পেশাল এডুকেশন শিক্ষকের হাতে সুপারিশপত্র তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্রুপ C ও গ্রুপ D-তেও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। নবম ও দশম শ্রেণির জন্য শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল পুজোর আগেই প্রকাশ করার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকার তাদের বাজেটে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব দেয়। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হয় ২২ জুন। সেখানে ৫০ হাজার শিক্ষক-অধ্যাপক নিয়োগের প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। ফলে সব মিলিয়ে রাজ্যে সরকারি চাকরির সুযোগ আরও বাড়তে চলেছে।

Read more!
Advertisement
Advertisement