
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি এড়াতে বড় পদক্ষেপ। এবার ভারতে সাময়িকভাবে ব্যান করা হল টেলিগ্রাম। পাশাপাশি এই অ্যাপের একটি জনপ্রিয় ফিচারও বন্ধ করা হল।
আসলে অভিযোগ রয়েছে, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে টেলিগ্রামেই। এখানকার বিভিন্ন চ্যানেলে প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে এডিটেড স্ক্রিনশট এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছিল। এই কারণেই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ জানিয়েছে ভারতে সাময়িকভাবে টেলিগ্রামের অ্যাক্সেস সীমিত করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটির একটি বহুল ব্যবহৃত ফিচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাথায় রাখতে হবে, ২১ জুন নিট ইউজি ২০২৬ রিটেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তার আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক দু'টি পৃথক নির্দেশ জারি করেছে। প্রথম নির্দেশ অনুযায়ী, ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের অ্যাক্সেস সীমিত রাখা হবে। এই সময়সীমার মধ্যে পরীক্ষার দিন এবং তার পরবর্তী সময়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দ্বিতীয় নির্দেশে বলা হয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের আগে থেকে পোস্ট করা মেসেজ এডিট করার সুবিধা বন্ধ রাখতে হবে।
এনটিএ জানিয়েছে, এই দু'টি পদক্ষেপই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন চ্যানেল ও গ্রুপ বড় বন্ধ করার মতো পদক্ষেপে কাজ না হওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন নজরে এল টেলিগ্রাম?
এনটিএ-এর দাবি, গত কয়েক মাস ধরে তারা কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেলের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। এই চ্যানেলগুলি প্রতারণা ও সাইবার জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সংস্থার মতে, 'PAPER LEAKED NEET', 'Re-NEET 2026', 'Private Mafia' এবং 'REE NEET MAFIAA'-এর মতো নামের চ্যানেলগুলো প্রকাশ্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার দাবি করছিল। এমনকী পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করছিল।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও টেলিগ্রাম
গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে টেলিগ্রামের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। ভারতে কোটি কোটি মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন।
গোপনীয়তা রক্ষা, এনক্রিপশন, বড় চ্যানেল, বেনামী ইউজারনেম এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে ফাইল শেয়ার করার সুবিধার জন্য টেলিগ্রাম জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
যদিও এই সুবিধাগুলি শিক্ষক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কনটেন্ট নির্মাতাদের আকৃষ্ট করেছে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ভেতরের তথ্য দেওয়ার দাবি করা জালিয়াতচক্রের কাছেও এটি জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব এবং প্রতারণা টেলিগ্রামের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে নিট-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময় প্রশাসন প্ল্যাটফর্মটির ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করে।