
রাজ্য বাজেটে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নতি সাধনের জন্য একাধিক প্রস্তাব পেশ করার পাশাপাশি, পড়ুয়াদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। যার আওতায় সরাসরি টাকা পাবেন বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীরা।
বাজেট পেশ করার সময় স্বপন দাশগুপ্ত প্রস্তাব দেন, কলেজের যে পড়ুয়ারা চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁদের এককালীন ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, "সরকারি ও সরকারপোষিত কলেজের ছাত্র-ছাত্রী যাঁরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদেঁর এককালীন ৩০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এজন্য আমি ৩০ কোটি টাকার অর্থ-বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।"
পাশাপাশি রাজ্যে শিক্ষার উন্নয়নের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যেসব ছাত্র-ছাত্রী বিশ্বের সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে (QS World University Ranking অনুযায়ী) আন্ডার গ্রাজুয়েশন বা মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হবেন তাঁদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি এবং স্বাস্থ্য বিমার খরচ বহনের জন্য 'স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ'-এর প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়াও, জাতীয় স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্ডার গ্রাজুয়েশন ও মাস্টার্স কোর্সে যেসকল মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবেন তাঁদের টিউশন ফি নির্বাহের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এই উদ্দেশ্যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।
PM-SHRI প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে
পাশাপাশি বাংলাকে শিক্ষার দিক থেকে একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। পদ্ধতিগত সংস্কার, শ্রেণিকক্ষ আধুনিকীকরণ, কর্মী ঘাটতি পূরণ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সুবিন্যস্তকরণ করার লক্ষ্যে PM-SHRI প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করার প্রস্তাব দেন তিনি। এছাড়াও, বিশ্বমানের কারিগরি ও ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণের উদ্দ্যেশ্যে ভারত সরকারের সহায়তায় উত্তরবঙ্গে একটি IIT এবং একটি IIM স্থাপন করার ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। হাতেকলমে শিক্ষার দ্বারা সৃজনশীলতা এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দ করে মোট ১,০০০টি স্কুলে Atal Tinkering Lab স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। এই ওয়ার্কশপে রোবোটিক্স ও কোডিং ক্লাস এবং বিভিন্ন রকম প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে যাতে বিদ্যার্থীদের সমস্যা-সমাধান এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষা অর্জন করতে পারেন।
স্কুলের জন্য জমি দেবে রাজ্য সরকার
এই রাজ্যে নবোদয় বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমি দেবে বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগণা, মালদা, ঝাড়গ্রাম এবং পূর্ব বর্ধমানে চারটি জায়গা চিহ্নিত করা হবে। একইভাবে ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়াতে দুটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমি চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং সংস্কৃত ভাষা প্রসারের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন স্বপন দাশগুপ্ত।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও IIT-র আধুনিকীকরণ
আগামী ৫ বছরে ভারত সরকারের ১,০০০ কোটি টাকা সহায়তায় ও রাজ্যের তরফে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি Institute of Excellence-এ উন্নীত করা হবে বলে ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
এছাড়াও, ITI-গুলির আধুনিকীকরণের জন্য, PM-SETU (PM Skilling & Employability Transformation through Upgraded ITIs) প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হল পরিকাঠামো, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষক এবং উন্নয়নের অন্যান্য খরচ নির্বাহ করা এবং একই সাথে শিল্পভিত্তিক শিক্ষার উন্নয়ন সম্পর্কিত কোর্সসমূহ ও প্লেসমেন্ট এবং ভর্তির উপর গুরুত্ব দেওয়া। এই খাতে ৫৭০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করার প্রস্তাব রাখেন তিনি।
IIT, JEE, NEET, CAT, CA এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি জেলায় দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র (Skill Development Centre) স্থাপন করা হবে বলেও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।
ছাত্রীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা
STEM-এ ছাত্রীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে এবং তাঁদের দক্ষতামূলক শিক্ষার সুযোগ দিতে আমাদের সরকার প্রতিটি জেলায় উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি ছাত্রীদের জন্য PPP Mode-এ একটি করে হস্টেল তৈরি করা হবে বলে ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।
পাশাপাশি, মেয়েদের মধ্যে শিক্ষাগত উৎকর্ষ বিকাশের লক্ষ্যে কাঁথি, কালিয়াচক, জঙ্গিপুর, সাগর, তুফানগঞ্জ এবং ফলতায় মহিলা কলেজ তৈরি করা হবে। সকল স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিতে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে বলেও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।
মিড ডে মিল নিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের উপকরণের খরচ ছাত্রপ্রতি ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হবে। পাশাপাশি, ইসকনের সহযোগিতায় কলকাতা পৌরসভা এলাকায় স্কুলে পুষ্টিকর রান্না করা মিড ডে মিল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
PM POSHAN প্রকল্পে, স্কুল পড়ুয়াদের মিড-ডে-মিল-এ (Mid-Day Meal) পুষ্টিকর ও গরম খাবার পরিবেশন করার ক্ষেত্রে Cook-Cum-Helper-রা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এদের গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাকে স্বীকৃতি দিয়ে আমি তাঁদের মাসিক সম্মানী ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি করার ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।
প্রত্যেক ICDS সেন্টার, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে গ্যাস কানেকশন, সোলার প্লেট, যেখানে প্রয়োজন বাসনপত্র এবং নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে ওয়াটার পিউরিফায়ার বসানো হবে। সকল প্রাইমারি স্কুলে বিদ্যুৎ যোগাযোগ ও বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এই বিষয়ে রাঢ় অঞ্চল অগ্রাধিকার পাবে।