
যাঁরা AI টুল তৈরি করলেন, তাঁদেরই ছাঁটাই করে দিল প্রযুক্তি সংস্থা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল পোস্টে বিতর্কে Meta। তাতে দাবি করা হয়েছে, সংস্থার কর্মীদের দিয়ে প্রথমে ইন্টারনাল AI টুল বানানো হয়েছিল। পরে সেই কর্মীদেরই ছাঁটাই করা হয়। যদিও ভাইরাল পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি bangla.aajtak.in। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রযুক্তি মহলে চর্চা তুঙ্গে। তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের কথায়, তাঁদের অনেকেই এখন AI দাপটে চাকরি হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ ‘জুলিয়ান’ নামে এক ইউজারের পোস্ট থেকে বিতর্কের সূত্রপাত। ইতিমধ্যেই সেই পোস্টে ১০ লক্ষের বেশি ভিউ হয়েছে। পোস্টে দাবি করা হয়েছে, Meta কয়েক মাস আগে ‘AI Week’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। সেখানে কর্মীদের নিত্যদিনের কাজ বন্ধ রেখে AI টুল এবং নতুন ওয়ার্কফ্লো শেখানো হয়।
ভাইরাল পোস্ট অনুযায়ী, কর্মীদের বলা হয়েছিল সপ্তাহের শেষে একটি প্রাথমিক AI প্রোডাক্ট তৈরি করতে, যা ভবিষ্যতে সংস্থার ভিতরে ব্যবহার করা হবে। পরে সেই প্রোজেক্টগুলি AI টিম এবং ইঞ্জিনিয়ারদের মাধ্যমে আরও উন্নত করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল।
সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলেছে পোস্টের আর একটি দাবি। ওই ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী কয়েক মাস ধরে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে একটি AI প্রোজেক্টে কাজ করেছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, সেই টুল ভবিষ্যতে তাঁদের চাকরির প্রয়োজনই কমিয়ে দিতে পারে। কিন্তু তার পরেও তিনি কাজ চালিয়ে যান। পরে তাঁকেই চাকরি হারাতে হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
যদিও এই দাবির সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি, তবে বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে যখন Meta একাধিক দেশে কর্মী ছাঁটাই করছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা, ইউরোপ এবং সিঙ্গাপুরে বহু কর্মীকে ইতিমধ্যেই ছাঁটাইয়ের নোটিস পাঠানো হয়েছে। ২০ মে থেকে হাজার হাজার কর্মী ই-মেল মারফত চাকরি হারানোর খবর পেয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, AI এবং অটোমেশনের কারণে ভবিষ্যতে ‘হোয়াইট কলার’ চাকরির উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থা এখন কম কর্মী নিয়ে দ্রুত কাজ করতে চাইছে। সেই কারণেই AI-নির্ভর ছোট এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া টিম তৈরির দিকে ঝুঁকছে সংস্থাগুলি।
Meta-র HR প্রধান জ্যানেল গেলের একটি নোটিস উদ্ধৃত করে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সংস্থা এখন AI-কেন্দ্রিক ছোট টিম গঠনের দিকে এগোচ্ছে। সেখানে কম ম্যানেজমেন্ট স্তর থাকবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই বহু কর্মীকে AI প্রোজেক্ট এবং AI এজেন্ট-সংক্রান্ত টিমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও খবর।
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী দিনেও AI-ই হবে Meta-র সবচেয়ে বড় ফোকাস। সংস্থা এ বছর AI অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করতে পারে বলে জানা গিয়েছে। লক্ষ্য, Google এবং OpenAI-এর মতো সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা।
Meta কর্তা মার্ক জুকারবার্গ (Mark Zuckerberg) জানিয়েছেন, বড় আকারে ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে কিছু টিমে সীমিত কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।