
বিশ্বের অন্যতম টেক জায়েন্ট মেটা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটস অ্যাপের মতো অ্যাপের মালিক এই সংস্থা। আর সেই বৃহৎ সংস্থাই এবার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এবার আর কস্ট কাটিং নয়, এমনকী লসের সিদ্ধান্ত নেয়নি এই সংস্থা। তাহলে কেন ছাঁটাই?
যতদূর খবর, মেটা মোটামুটি মোট কর্মীর ১০ শতাংশকে ছাঁটাই করার উদ্যোগ নিয়েছে। ৮০০০ কর্মীর চাকরি যেতে পারে। এমনকী ৬০০০ পদ 'ফ্রিজ' করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে ১৪,০০০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে দাবি করা হচ্ছে। আর সংস্থার এত বড় সিদ্ধান্তের নেপথ্য নাকি রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। মেটা নিজেদের ব্যবসার মডেল বদলে ফেলতে চলেছে।
এআই-এর বিরাট প্রভাব?
মেটার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, এআই শুধু কোনও প্রযুক্তি নয়, বরং এর মাধ্যমে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। সংস্থার পক্ষ থেকে এমন সিস্টেম বানান হচ্ছে, যেগুলি এতদিন মানুষ করে এসেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলি, কোড লেখা, কন্টেন্ট লেখা এবং ডেটা অ্যানালাইজ করার মতো কাজগুলি এখন এআই টুল দিয়েই বেশি করা হয়।
গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই নিজেই জানিয়েছে, কোম্পানির ৭০ শতাংশ কোডিং এআই করে দিচ্ছে। যার সহজ অর্থ হল কোডাররা নিজের চাকরি হারাতে চলেছেন বা ইতিমধ্য়েই হারিয়ে ফেলেছেন।
রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, মেটা ৬০০০ কর্মী নিয়োগ ফ্রিজ করে দিয়েছে। তাই শুধু কর্মরত কর্মীরাই নন, বরং যাঁরা চাকরির আশায় বুক বেঁধেছেন, তাঁদের কাজের জায়গায় সীমিত হয়ে আসছে।
মানুষের জায়গা নিচ্ছে এআই?
মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, এআই নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগামিদিনে একাধিক কাজ করে ফেলবে। এমনকী কিছু রিপোর্ট সম্পর্কে জানাচ্ছে, সংস্থার একটা বড় অংশের কোডিং ইতিমধ্যেই এআই করে ফেলছে। যার ফলে কর্মীদের প্রয়োজন পড়ছে কম।
আর ভয়ের খবর হল, শুধু মেটা নয়, এর পাশাপাশি মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং অন্যান্য বড় সংস্থারাও এই একই পথে হাঁটছে। ২০২৬ সালেই প্রচুর সংখ্যক টেক জব উবে যেতে পারে। মূলত এআই-এর জন্যই এমনটা হচ্ছে।
একাধিক রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, ২০২৬-এর শুরুর সময়ই অসংখ্য টেক জব শেষ হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এআই হল কারণ। আশা করা হচ্ছে, এই বছরেই গোটা বিশ্বের প্রায় ৭০,০০০ মানুষকে ছাঁটাই করতে পারে এআই।
মাথায় রাখতে হবে, মেটা কিন্তু খরচ কমানোর জন্য এই ছাঁটাই করছে না। বরং তারা বিলিয়ন ডলার খরচ করতে চলেছে এআই-এর জন্য। আগামিদিনে যন্ত্রই যাতে সব কাজ করে ফেলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগচ্ছে তারা। এর অর্থ এমন নয় যে এআই সব চাকরি নিয়ে নেবে। বরং এআই যেমন চাকরি নেবে, তেমন নতুন চাকরি তৈরিও করবে।