
TCS New Hiring 2026: এআই (AI)-এর দাপট। বিশ্ববাজারে মন্দা। IT সেক্টরের সোনার যুগ কি তবে শেষ? গত এক বছর ধরে এই একটি প্রশ্নই তাড়া করে বেড়াচ্ছিল দেশের লক্ষ লক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি পড়ুয়া ও কর্মীদের। জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছিল দেশের বৃহত্তম সফটওয়্যার রফতানিকারী সংস্থা TCS। কর্মী সংখ্যা হ্রাসের জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল তারা। তবে মাত্র তিনটি ত্রৈমাসিক কাটতে না কাটতেই সেই মেঘ কেটে যাওয়ার ইঙ্গিত। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নেট ৯,২৭৯ জন নতুন কর্মী নিয়োগ করেছে সংস্থা। গত তিন বছরের মধ্যে এটিই সংস্থার কোনও সিঙ্গেল কোয়ার্টারে বৃহত্তম কর্মী নিয়োগ। এর ফলে বর্তমানে টিসিএস-এর মোট কর্মী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৯৩,৭৯৮।
সংস্থার এই ‘ইউ-টার্ন’ বা ঘুরে দাঁড়ানোর পরিসংখ্যান যে একটি সুখবর, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এতে এটাই প্রমাণ হয় যে, ভারতীয় আইটি শিল্পে মন্দার কালো মেঘ কাটছে।
তাই যদি হয়, তাহলে ২০,০০০ কর্মীর চাকরি গেল কেন?
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর কোয়ার্টারে টিসিএস-এর কর্মী সংখ্যা থেকে ১৯,৭৫৫ জন মাইনাস হয়েছিল। এর পরের ত্রৈমাসিকেও আরও ১১,১৫১ জন কর্মী কমে যায়। চারদিকে শোরগোল পড়ে যায়। অনেকেই AI-কে দোষারোপ করছিলেন। বলছিলেন এআই আসার কারণেই টিসিএস বিপুল হারে ছাঁটাই শুরু করেছে।
তবে সেই সময়েই সংস্থার চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার সুদীপ কুন্নুমাল জানিয়েছিলেন, এটি কোনও পরিকল্পিত ছাঁটাই ছিল না। অনেকেই স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়ে কোম্পানি সুইচ করেছেন। অনেকে আবার পারফরম্যান্স ম্যানেজমেন্ট এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারায় বাদ পড়েছিলেন। এটা রুটিন প্রসেস। ২০২৬-এর মার্চ ত্রৈমাসিক থেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ২,৩৫৬ জন নেট কর্মী যুক্ত হন। আর চলতি জুনের ত্রৈমাসিকে প্রায় ১৪,০০০ ফ্রেশার্স বা ক্যাম্পাস রিক্রুট আসে। মোট ৯ হাজারেরও বেশি নেট কর্মী নিয়োগ করে টাটা গোষ্ঠীর এই সংস্থা।
টিসিএস-এর পকেটে ৯.৫ বিলিয়ন ডলারের কনট্র্যাক্ট
টিসিএস-এর এই নতুন নিয়োগের পিছনে আরও বেশ কিছু অনুঘটক(Catalyst) রয়েছে। জুন ত্রৈমাসিকে সংস্থার নিট প্রফিট ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩,৩৪৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এই মুহূর্তে টিসিএস-এর ঝুলিতে রয়েছে ৯.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক বিশাল অর্ডার বুক। এর মধ্যেSKF-এর সঙ্গে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের একটি মেগা এআই-টান্সফরমেশন ডিল রয়েছে। ইউরোপের একটি ফরচুন গ্লোবাল ৫০ সংস্থার সঙ্গে কোটি কোটি ডলারের চুক্তিও আছে। ফলে কাজ বাড়ার কারণেই নতুন কর্মীর প্রয়োজন পড়েছে সংস্থার।
এআই যুগে নিয়োগের ধরণ বদলে যাচ্ছে
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে অন্ধের মতো Mass Hiring করেছিল সব সংস্থা। সেটা আর করবে না টিসিএস। এখন নিয়োগ অত্যন্ত ‘স্পেশালাইজড’ বা সুনির্দিষ্ট দক্ষতার ভিত্তিতে হবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ক্লায়েন্টরা এআই (AI), ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি এবং ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছেন। ফলে ট্র্যাডিশনাল বা পুরনো ধাঁচের কোডিং জানা কর্মীদের চাহিদা কমছে। শুধুই বেসিক কিছু কোডিং দিয়ে আর কাজ এগোবে না। স্পেশালাইজেশন থাকলে তবেই চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকবেন IT কর্মীরা।