
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় থেকে শুরু করে এবারের উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকার মোট ১৮ জন পরীক্ষার্থীই এই স্কুলের পড়ুয়া। কোন রহস্যে এত জন জুয়েল ছাত্র তৈরি করল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন? bangla.aajtak.in-কে দুর্ধর্ষ রেজাল্টের নেপথ্য কাহিনি শোনালেন বিদ্যালয়ের প্রোক্টর তথা সহকারী প্রধান শিক্ষক সৈকত বসু।
নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয় (রেসিডেন্সিয়াল) অর্থাৎ এই স্কুলের সকল ছাত্ররাই হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেন। ছোটবেলা থেকেই বিশেষ নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলতে হয় পড়ুয়াদের। মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এই স্কুলে। স্মার্টফোনহীন জীবনই কি অসাধারণ রেজাল্টের মূল কারণ? সহকারী প্রধান শিক্ষক সৈকত বসু বলেন, 'আমাদের এখানে প্লাস পয়েন্ট হল, মোবাইল ফোনের কোনও ব্যবহার করে না ছাত্ররা। এটা মোবাইল ফোন ফ্রি জোন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলে ওরা। নিয়মানুবর্তিতা বিরাট ভাবে কাজ করেছে ভাল রেজাল্টের নেপথ্যে।'
টিনএজারদের ক্ষেত্রে স্মার্টফোন ডিসট্র্যাকশনের কারণ হয়ে ওঠে, আসক্তি তৈরি করে। আবার এই স্মার্টফোন কিংবা ইন্টারনেটের দুনিয়া থেকে দূরে থাকলে বাইরের জগতের থেকে পড়ুয়ারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে না? এ প্রসঙ্গে সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, 'আমাদের টিউটরিয়াল ক্লাসগুলি খুব উপকারী। পাশাপাশি ছাত্ররাই, ছাত্রদের বিরাট মেন্টর এখানে। বন্ধুরাই বন্ধুদের টিচার। সেকশনগুলিও মেডিক্যাল কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ইচ্ছুক পড়ুয়াদের মতো করেই ভাগ করা হয়। তাছাড়া আমাদের ল্যাব রয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ থাকে ছাত্রদের। তবে সবটাই মনিটর করা হয়। তবে এই ২টো বছর ওদের কাছে পড়াশোনাই মূল বিষয়।'
নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে চান্স পাওয়া কি খুবই কঠিন? সৈকত বসু বলেন, 'অ্যাডমিশন টেস্ট যথেষ্টই কঠিন, এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। সেটা ক্র্যাক করে যারা ঢুকছে, তারা সত্যিই জুয়েল। বাবা-মায়েদের ইচ্ছা তো থাকবেই। তবে এখানে ছাত্ররা কী চাইছে, সেটাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। তাদের থেকেও ফিডব্যাক নেওয়া হয়। কোন শিক্ষকের ক্লাস ভাল লাগে, সেটাও মনিটর করা হয়। খুব ভাল ছাত্রদের জন্য একজন শিক্ষক আবার অ্যাভারেজ ছাত্রদের জন্য অন্য শিক্ষক। মেধা অনুযায়ী গ্রুপ ভাগ করা থাকে।'
নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন মানেই হয় ডাক্তার না হয় ইঞ্জিনিয়ার? আধুনিক কোর্সগুলির সঙ্গে স্মার্টফোনবিহীন ছাত্রদের পরিচয় হওয়ার সুযোগ আছে কি? সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, 'এতদিন শুধু বিজ্ঞান বিষয়েই পড়াশোনা হত, টার্গেট ছিল মেডিক্যাল আর ইঞ্জিনিয়ারিং। ধীরে ধীরে কমার্স এবং আর্টসের নানা বিষয়েও পড়াশোনা করানো হচ্ছে। পপুলার টকের মতো সেশন করা হয়, যেখানে আজকালকার বিষয় নিয়েও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ছাত্রদের।'
মেধাতালিকায় ১৮
২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম স্থানাধিকারী আদৃত পাল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনেরই ছাত্র। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৬। এই স্কুল থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দু’জন ছাত্র। ঋতব্রত নাথ এবং ঐতিহ্য পাঁচাল। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সৌম রায়। চতুর্থ অর্কদ্যুতি ধর, পঞ্চম প্রিয়াংশু মুখোপাধ্যায় এবং অলেখ্য মাইতি। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে প্রত্যুষ মণ্ডল, শুভদীপ দিন্দা, পল্লব কুমার ভাওয়াল, অনিমেষ মুখোপাধ্যায়। অষ্টম অরিঘ্ন সরকার, ফারহান আলি। নবম স্থানে সোহম বেজ এবং দশম স্থানে সোহম ভৌমিক, সৃজন পাল, সাগ্নিক ঘটক, মেঘান অধিকারী।