
আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। তারআগে প্রচার চলছে জোরকদমে। গরম উপেক্ষা করেই ময়দানে ডান-বাম সব দলের নেতারা। গোটা রাজ্য জুড়ে দলের হয়ে প্রচার করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এদিনও একাধিক জনসভা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরমধ্যে বলরামপুরের জনসভা থেকে পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোকে নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ করেন তৃণমূলের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
২০২১ সালে বলরামপুর থেকে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন বানেশ্বর মাহাতো। এবার এই আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী করেছে জলধর মাহাতোকে। এদিন বলরামপুর কলেজ ময়দানে বলরামপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতোর সমর্থনে জনসভা করতে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকে বিজেপি প্রার্থীকে নিয়ে অভিষেক বলেন, 'আমি শুনেছি তিনি এখানকার যে সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোর আপ্তসহায়ক, নতুন গাড়ি গিফট করে বিজেপি প্রার্থীপদ ঘুষ দিয়ে নিয়েছেন তিনি। আমার কাছে খবর আছে।' পাশাপাশি অভিষেক বলেন, 'দিল্লির তল্পিবাহকের আপ্তসহায়কের অধীন বলরামপুরবাসীকে থাকবে হবে, এই আপমান কী মানবেন বরলামপুরবাসী? দিল্লির ক্রীতদাসের আপ্তসহায়কে আপনাদের মাথায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।'
বিজেপির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, 'এখানে আমাদের ফল খারাপ হওয়ার পরেও গত ২ বছরে ৮ হাজার গরিব মানুষকে বাড়ির টাকা দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। যার মধ্যে ১০ পয়সার কোনa অবদান নরেন্দ্র মোদীর সরকার বা জ্যোতির্ময় মাহাতোদের নেই। বলরামপুর বিধানসভায় ৬৩ হাজার মায়েরা প্রতি মাসে লক্ষীর ভান্ডার পাচ্ছেন। বিজেপি বলছে তারা ক্ষমতায় এলে ৩ হাজার টাকা লক্ষীর ভান্ডার দেবে। মাথায় রাখবেন জিরো ওয়ারেন্টি। যারা নিজের দলের কর্মীকে চাকরি দিতে পারে না। বলেছিল ১৫ লাখ দেবে। কেউ পেয়েছেন? না। ২ কোটি চাকরি হবে – হয়েছে? না। মিথ্যের পর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি।'
বলরামপুরে জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয়ী অভিষেক। তিনি বলেন, 'আজকের সভা বলে দিচ্ছে এই বলরামপুর থেকে তৃণমূলের জয় সময়ের অপেক্ষা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা খালি ৪ তারিখ হবে।' তিনি আরও বলেন, 'সারা জীবন রাজনীতি করতে গিয়ে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেনি। ৫ মাস আগে নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে হারিয়েছে। তাও আপনাদের পাশ থেকে সরেনি। এই হচ্ছে শান্তিরাম মাহাতো। সেই শান্তিরাম মাহাতোকে আমরা প্রার্থীপদ দিয়েছি। এখানে বানেশ্বর মাহাতো প্রার্থী ছিল। তাকে দেওয়া হলো না। তাকে দিলে পঞ্চাশ হাজার ভোটে হারত। আর যাকে দাঁড় করিয়েছে তাকে দাঁড় করানোর ফলে আমি বিশ্বাস করি পাঁচ হাজার ভোট হলেও তৃণমূলের বাড়বে, কমবে না। জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।'