
ভোটের আগে বাইক চলাচল নিয়ে জারি হওয়া বিধিনিষেধ ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের জেরে অবশেষে কিছুটা নরম অবস্থান নিতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈধ পরিচয়পত্র বা অফিসের আই-কার্ড দেখাতে পারলে অফিসযাত্রীরা এখন নির্দিষ্ট সময়ের পরেও বাইক ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রথম নির্দেশিকায় কমিশন জানায়, সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে, তবে পিছনে কাউকে বসানো যাবে না। আবার সন্ধে ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য এই নিয়ম ২৭ ও ২৮ এপ্রিল কার্যকর থাকবে বলেও জানানো হয়েছিল। ভোটের দিনেও কিছু বিশেষ ছাড় থাকলেও, রাতের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছিল।
এই নির্দেশিকা প্রকাশের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় জনমানসে। বিশেষ করে অ্যাপ-নির্ভর বাইক পরিষেবা, খাবার ডেলিভারি কর্মী এবং বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা সমস্যায় পড়েন। অনেকের বক্তব্য ছিল, অফিস ছুটির সময়ই যখন সন্ধ্যা ৬টার পরে, তখন বাড়ি ফিরবেন কীভাবে?
সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যায়। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তোলেন, শান্তিপূর্ণ ভোটের নামে কেন এমন কঠোর বিধিনিষেধ চাপানো হচ্ছে, যা দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করছে।
এই পরিস্থিতিতে কমিশন আংশিক ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন অফিসের আই-কার্ড দেখাতে পারলে কর্মীরা বাইক ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এই ছাড়ের পরেও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
কারণ, যাঁরা বাজার করা বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সন্ধ্যায় বাইক বা স্কুটার ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা স্পষ্ট নয়। অনেকের কাছেই কোনও অফিস আই-কার্ড থাকে না। ফলে তাঁদের চলাচল নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন সংশয়।