
তৃণমূলের প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রবিবার কলকাতার বেলেঘাটায় তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের সমর্থনে সভা করেন। সেই মঞ্চ থেকে প্রশ্ন করেন, 'সারা দেশ থেকে প্যারামিলিটারি ফোর্স বাংলায় পাঠানো হচ্ছে। আপনারা কি ভারতীয় নন? আপনারা কি জঙ্গি?'
কেজরিওয়াল বলেন, এই নির্বাচন শুধুই রাজ্য সরকারের জন্য নয়, 'দেশ এবং গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই।' তাঁর অভিযোগ, বাংলার নির্বাচনে বিজেপি তাদের সমস্ত শক্তি লাগিয়ে দিয়েছে। বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। বলেন, এর মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভোটার তালিকা নিয়েও বড় অভিযোগ করেন আপ প্রধান। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেজরিওয়ালের কথায়, 'যদি আপনার নাম ভোটার তালিকায় না থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ কী হবে? আপনাকে ভারতীয় না বলার চেষ্টা হতে পারে। এমনকি সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।'
এই প্রসঙ্গে তিনি ওই ভোটারদের তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। বলেন, তাঁরা যেন 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক' হয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার করেন। একই সঙ্গে কংগ্রেস ও বাম সমর্থকদেরও তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান কেজরিওয়াল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও (Narendra Modi) কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, দেশের মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রীর উপর অসন্তুষ্ট। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাঁকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে বলে দাবি করেন কেজরিওয়াল।
বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, 'যদি ভুল করে পদ্মফুলে ভোট দেন, তাহলে মাসে ১৫০০ টাকা পাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।' দিল্লিতে আপ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বন্ধ করার অভিযোগও তোলেন তিনি এবং দাবি করেন, বাংলাতেও বিজেপি ক্ষমতায় এলে একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যসভায় দলের ৭ সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছে আপ। সেই পরিস্থিতিতেই কেজরিওয়ালের এই বঙ্গ সফরকে ইন্ডিয়া জোটের শক্তি প্রদর্শন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহ। এই দফা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ৪ মে ফল প্রকাশ।