
কাল পর্যন্তও স্থানীয়দের বাড়ি বাড়ি মাসন মাজা, কাপড় কাচা, ঘর ঝাঁট দেওয়ার কাজ করতেন। সেই কলিতা মাজিকেই ফের একবার টিকিট দিল BJP। আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই প্রচার শুরু করে দিয়েছেন পেশায় পরিচারিকা কলিতা। বিধায়ক হওয়ার লড়াইয়ে ঝাঁপাতে গিয়ে রুজি-রুটির টানে বাড়ি বাড়ি কাজ ছেড়ে দেবেন তিনি? জানালেন bangla.aajtak.in-কে।
পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ের বাসিন্দা কলিতা মাজি। তপশিলি জাতির এই মহিলা বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করেন। ভোটের প্রচারের মাঝে কি সেই কাজ জারি রাখবেন? কলিতা বলেন, 'সকলেই আমায় খুব সমর্থন করছে। ওরা বলেছে, এখন কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখতে। ওদের কোনও সমস্যা নেই। সকলেই বলেছে, পরে আবার এসে কাজ করবে। আপাতত ভোটের প্রচার করব।'
উল্লেখ্য, কলিতা মাজিকে ২০২১ সালেও প্রার্থী করেছিল BJP। এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভেদানন্দ থাণ্ডার জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৩৯২টি ভোট। কলিতা মাজি দ্বিতীয় হয়ে পেয়েছিলেন ৮৮ হাজার ৫৭৭টি ভোট। হারে ব্যবধান ছিল ১১ হাজার ৮১৫ ভোট। জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কলিতা। তিনি বলেন, 'গত বছর মাত্র ১১ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিলাম। এ বছর তা কভার করে দিতে পারব।'
কলিতার নাম রয়েছে 'বিচারাধীন' তালিকায়। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, BJP জানে 'অ্যাডজুডিকেশন' হলেও এঁরা ঠিক তালিকায় ঢুকে যাবে। সব জেনেই কলিতা মাজিকে প্রার্থী করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অবশ্য খোলসা করে কিছু বলতে চাইলেন না কলিতা। তাঁর কথায়, 'দল আমায় প্রচার করতে বলেছে, কোনও সমস্য়া নেই। আমি তাই করব। এই সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।' পরিবারে রয়েছেন স্বামী ও এক ছেলে। ছেলে পার্থ এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। গুসকরা পুরসভার ১৯৫ নম্বর বুথের ভোটার কলিতা মাজি। SIR প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, ওই বুথে ৩৯৭ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে তাঁর নাম। কিন্তু সেই নামের পাশে লেখা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’। জানা গিয়েছে, শুনানিতে ডাকও পেয়েছিলেন কলিতা। জমা করে এসেছেন প্রয়োজনীয় নথিও। তবে প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি আদৌ নিজের ভোট দিতে পারবেন? না কি বাকি ৬০ লক্ষের মতো ভাগ্য ঝুলে থাকবে এই BJP প্রার্থীরও? আর ভোট দেওয়াই যখন অনিশ্চিত, তখন কেউ কি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে?