
অসম বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে এখন গোটা দেশের নজর। আগামী ৪ মে ভোটগণনা হলেও তার আগে এগজিট পোলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির। সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি আবারও ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার চান্স প্রায় নেই বললেই চলে।
এবার অসমে ১২৬টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে মোট ৭২২ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে বিজেপি লড়াইয়ে নেমেছে। আর কংগ্রেসের তরফে মুখ হয়েছেন গৌরব গগৈ।
এক্সিস মাই ইন্ডিয়ার এগজিট পোল অনুযায়ী, বিজেপি ৮৮ থেকে ১০০টি আসন পেতে পারে। কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে ২৪ থেকে ৩৬টি আসন। অন্য দলগুলির প্রাপ্তি হতে পারে ০ থেকে ৩টি আসন। ফলে এনডিএ জোট প্রভাবশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবারও সরকার গঠন করতে পারে বলে অনুমান। ভোট শতাংশের দিক থেকেও বিজেপি এগিয়ে। প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে তারা। কংগ্রেসের সম্ভাব্য ভোট শেয়ার ৩৮ শতাংশ এবং অন্যদের ১৪ শতাংশ।
তবে অসমের রাজনৈতিক লড়াই যতটা সরল মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়। রাজ্যের রাজনীতি মূলত তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত—উপর অসম, মধ্য অসম এবং নিচ অসম। প্রতিটি অঞ্চলের সামাজিক কাঠামো, ইস্যু এবং ভোটের ধরন আলাদা, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট ৭৫টি এবং কংগ্রেস জোট ৫০টি আসন পেয়েছিল। সে সময় All India United Democratic Front (AIUDF) কংগ্রেসের সঙ্গেই ছিল, কিন্তু এবারে তারা আলাদা লড়ছে।
এবার কংগ্রেস বাম দল ও আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট বেঁধেছে, তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—তারা কি বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে? মোট ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৯০টিতে প্রার্থী দিয়েছে, তাদের সহযোগী দলও রয়েছ।
অন্যদিকে কংগ্রেস ৯৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, আর তাদের সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে রাইজর দল (১৩টি), অসম জাতীয় পরিষদ (১০টি), সিপিআই (এমএল), সিপিএম এবং অন্যান্য দল। AIUDF ২৭টি আসনে, তৃণমূল কংগ্রেস ২৩টি আসনে এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ১৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
সব মিলিয়ে, এক্সিট পোল বিজেপির পক্ষে গেলেও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য নজর থাকবে ৪ মে-র গণনার দিকে।