
শনিবার সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বসতে চলেছে বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে এখন শেষ মুহূর্তের জোর প্রস্তুতি চলছে।
'অনেকে বলতেন, আমরা নাকি বাঙালি সংস্কৃতির বাইরে। মানুষ যে বিপুল সমর্থন দিয়েছেন, সেটাই তার জবাব। শপথগ্রহণ শুধু রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হবে না, এটা হবে বাংলার সংস্কৃতির এক বড় উদ্যাপন,' বৃহস্পতিবার ব্রিগেডে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসে বললেন এক শীর্ষ বিজেপি নেতা। এদিন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও অনুষ্ঠানস্থল ঘুরে নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থার পর্যালোচনা করেন।
মূল মঞ্চে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ বহু বিশিষ্ট অতিথির বসার কথা, সেখানে থাকছে বিশাল দুর্গামূর্তি। পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন কৃতী ও আইকনিক লাইফসাইজ প্রতিকৃতিও সাজানো হবে। মাঠজুড়ে তৈরি হচ্ছে একাধিক খাবারের স্টল। সেখানে মিলবে ঝালমুড়ি, রসগোল্লা, সন্দেশ-সহ নানা বাঙালি খাবার।
তবে এতসব আয়োজনের মাঝেও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। রাজ্য জুড়ে এখন বর্ষণপর্ব চলছে। আবহাওয়া দফতর শনিবার সকালে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
বৃহস্পতিবারও কলকাতায় একাধিক দফায় বৃষ্টি হয়েছে। বিকেলে ব্রিগেডের বড় অংশই ছিল ভিজে। মাঠে জায়গায় জায়গায় কাদা ও জল জমে রয়েছে। ফলে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের কথাও ভাবা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেলের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, 'চিন্তার কিছু নেই। বরুণদেবের সঙ্গে বোঝাপড়া হয়ে যাবে। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নেই হবে।' বৃহস্পতিবার ব্রিগেডে গিয়ে দেখা যায়, কর্মী ও যন্ত্রপাতির ব্যস্ত আনাগোনা। ট্রাকে করে আসছে চেয়ার, ক্রেন দিয়ে তোলা হচ্ছে বিশাল লোহার কাঠামো।
বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ কলকাতা পুরসভার দু’টি পশুবাহী ভ্যান মাঠে আসে পথকুকুর সরাতে। ‘অ্যানিম্যাল অ্যাম্বুল্যান্স’ লেখা সেই গাড়িগুলিতে এখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত স্লোগান রয়ে গেছে। কর্মীরা দড়ি দিয়ে কুকুরগুলোকে গাড়িতে তোলেন।
আয়োজকদের দাবি, শনিবার অন্তত ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে। মূল মঞ্চের সামনে আড়াআড়িভাবে তৈরি হচ্ছে তিনটি বিশাল হ্যাঙ্গার। বসানো হবে ৩০ হাজারেরও বেশি চেয়ার।
মূল মঞ্চকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একাংশে বসবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। অন্য অংশে থাকবেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি, যিনি শপথবাক্য পাঠ করাবেন। পাশাপাশি থাকবে শপথমঞ্চ। তৃতীয় অংশে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
শপথগ্রহণের পর নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী যাবেন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। যে ভবন একসময় ছিল বাংলার প্রশাসনিক কেন্দ্র। ২০১৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সচিবালয় নবান্নে সরিয়ে নেওয়ার পর রাইটার্সের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায়। নতুন সরকারের তরফে সেই সফরকে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ব্রিগেডের চারপাশে তৈরি হচ্ছে মোট ২৫টি প্রবেশদ্বার। তার মধ্যে পাঁচটি থাকবে ভিভিআইপিদের জন্য। প্রতিটি গেটেই তুলে ধরা হবে বাংলার ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক।
অনুষ্ঠানে থাকছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। ছৌ ও বাউল শিল্পীদের অনুষ্ঠান ছাড়াও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা হওয়ার কথা। থাকছে ‘সিঁদুরখেলা’র আয়োজনও।