
রাজ্যের ২৯৩টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাকি রয়েছে খালি ফলতা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন। এদিকে ভোটপর্ব মিটলেও পদত্যাগ করতে রাজি নন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই আবহেই বুধবার সকালে লোকভবনে গেলেন CEO মনোজ আগরওয়াল। রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে সাক্ষাত করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বাংলায় বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ আগামী ৯ মে, শনিবার। তার আগে আজ বুধবার লোকভবনে গিয়ে গেজেট নোটিফিকেশন জমা দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল । রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ বৈঠকও করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনোজ আগরওয়াল বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাজ আপাতত এখানেই শেষ। জয়ী বিধায়কদের নামের তালিকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার যা দায়িত্ব পালন করার সবটাই লোকভবন করবে।
মনোজ আগরওয়াল বলেন, 'আমরা নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি রাজ্যপালের কাছে জমা দিয়েছি। ফলতায় পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং আমরা বাকি ২৯৩টি আসনের বিজয়ীদের তালিকা রাজ্যপালকে দিয়েছি। তাঁরাই এখন নতুন বিধানসভা গঠন করবেন...।'
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির মধ্যকার বিষয়। এতে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই এবং আমরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না।'
রাজ্যের ২৯৩ টি বিধানসভার গেজেট নোটিফিকেশন নিয়ে রাজ্যপালের কাছে যান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়াল সহ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের টিম। ২৯৩ টি বিধানসভার ফলাফলের তথ্য রাজ্যপালের কাছে পেশ করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। এর পর নতুন সরকার গঠন প্রস্তুতি শুরু করবেন রাজ্যপাল।পাশাপাশি যতদিন নতুন সরকার গঠন না হচ্ছে ততদিন কিভাবে পরিচালনা তা নিয়েও সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্যপাল। জানা যাচ্ছে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিবের সঙ্গেও এদিন বৈঠক করেন রাজ্যপাল।
উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়। দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার করতে চলেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত না হলেও আগামী শনিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা জানানো হয়েছে পদ্ম শিবিরের তরফে। তার আগে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যদি পদত্যাগ না করেন সেক্ষেত্রে ৭ তারিখের পর এবং ৯ তারিখের আগে পর্যন্ত কীভাবে রাজ্য পরিচালনা হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্যপাল আর এন রবি।