
তৃণমূল ও বিজেপি যখন ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত, সেই সময় ৩৪ বছরের শাসনকালের অভিজ্ঞতা নিয়ে বামফ্রন্ট এখন অন্তত একটি আসন জয়ের হিসাব কষছে। ভোটের আবহে সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, 'এবার কি একটা আসন পাওয়া যাবে?' আর কেউ আশার কথা বললেই পরের প্রশ্ন উঠে আসছে, 'কোন আসনটি?' মে দিবসের মিছিলে নেমেও এই কৌতূহল স্পষ্ট হয়েছে লাল ঝান্ডার সমর্থকদের মধ্যে।
সামাজিক মাধ্যমেও নানা জল্পনা উসকে দিচ্ছে এই প্রশ্নকে। কখনও পরিসংখ্যান দেখিয়ে বলা হচ্ছে, বামফ্রন্ট ভালো ফল করতে পারে, এমনকি কোথাও কোথাও সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে দলের একাংশ কর্মী-সমর্থক খুব বেশি আসন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নন। বরং তাঁরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ভবিষ্যতের সংগঠন গড়ে তোলার রূপরেখায়।
এরই মাঝে আলোচনায় ঢুকে পড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বিভিন্ন জায়গায় দাবি করা হচ্ছে, ২০৩১ সালের নির্বাচনে নাকি সিপিএম আবার জোরদার প্রত্যাবর্তন করবে। যদিও এইসব পূর্বাভাসকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইছেন না দলের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব। বরং তাঁরা এখনকার বাস্তব পরিস্থিতির ওপরই নজর রাখছেন।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বসে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে গ্রাউন্ড রিপোর্ট খতিয়ে দেখার কাজ। টানা পাঁচ বছর বিধানসভায় কোনও প্রতিনিধি না থাকার পর, এবার অন্তত একজন বিধায়ক পাঠানো যাবে কি না, সেই উত্তর খুঁজছেন নেতারা। ভোটের আগেই বর্ষীয়ান বাম নেতা বিমান বসু বলেছিলেন, 'সিপিএম আর মহাশূন্যে থাকবে না।' তবে এই আশ্বাসেও নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে পুরোপুরি আস্থা তৈরি হয়নি। তাঁদের আশঙ্কা, যে ভোট একসময় বিজেপির দিকে গিয়েছিল, তা আদৌ আবার সিপিএমের ঝুলিতে ফিরবে কি না।
এক সিপিএম কর্মীর কথায়, 'আমরা মানুষের কাছে বিজেপির বিপদের কথা তুলে ধরছি। কিন্তু তার প্রতিফলন ভোটবাক্সে পড়বে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।' তারওপর বুথফেরত সমীক্ষার কিছু ইঙ্গিত অনুযায়ী, কেরলের মতো রাজ্যেও বামেদের অবস্থান খুব মজবুত নয়, এমন খবরও চিন্তা বাড়াচ্ছে।
তবে সব দিক বিচার করে আলিমুদ্দিনের নেতারা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটের শতাংশ কিছুটা হলেও বাড়বে। যদিও শুধুমাত্র ভোট শতাংশ বাড়লেই কর্মীদের মন ভরবে না। কলতান দাশগুপ্ত, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দীপ্সিতা ধর, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ও আফরিন বেগমের মতো প্রার্থীদের সক্রিয় প্রচার কর্মী-সমর্থকদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী অন্তত একটি আসন জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।